স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর উত্তরখান থানার দোবাদিয়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানের জননী সর্না আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূ রহস্যজনক ভাবে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। বুধবার রাত ১ রা ৩০ মিনিটে গৃহবধূ সর্নার স্বামী কানাডা প্রবাসী ওমর ফারুক ফাহাদ গৃহবধূর পরিবারকে ফোন করে মৃত্যু সংবাদ দেন। জানা যায়, নিহত সর্না (২৭) পদ্মা দক্ষিণ থানার মহরালী হাজির কান্দির এলাকার মমিন মাদবর মেয়ে। এবং ১২ বছর পূর্বে উত্তরখানে ওমর ফারুক ফাহাদ এর সাথে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ হয়। তাদের ঘরে দুইটি ছেলে সন্তান রয়েছে। নিহত সর্না বুধবার রাত ১২ টা ৫৪ মিনিটে তার মাকে হোয়াটসঅ্যাপ এ শেষ মেসেজে বলেন, মা তোমার সাথে শেষবার কথা বলতে পারলাম না। আমারে ওরা বাঁচতে দিলো না মা, আমার বাচ্চা গুলোর খোঁজ নিও। আত্মহত্যার বিষয়ে নিহতের বাবা মমিন মাদবর বলেন, আমি পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং উত্তরা সেক্টর নং-১০, ফুলবাড়ীয়া রোডে এসএমটি ট্রেনিং সেন্টারের ব্যাবসা আছে। আমার মেয়ে সর্না একটু সহজ সরল। ১২ বছর পূর্বে ওমর ফারুক ফাহাদ এর সাথে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ দেয়। আমার মেয়ের সংসারে ০২টি ছেলে সন্তান আছে, যার মধ্যে ১ম সন্তানের বয়স ০৭ বছর এবং ২য় সন্তানের বয়স ০৩ বছর। গত ০১বছর পূর্বে আমার মেয়ে সর্না আক্তার এর স্বামী ওমর ফারুক ফাহাদ আমার মেয়েকে না জানিয়ে তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় ২য় বিবাহ করে। ২য় বিবাহের বিষয় নিয়ে আমার মেয়ের সাথে তার স্বামী ওমর ফারুক ফাহাদের সাথে সাংসারিক মনমালিন্য হয়। এবং বিভিন্ন সময়ে আমার মেয়ে মারধর করতো। ২য় বিয়ের পরে, সেই বউসহ তার পরিবারে লোকজন আমার মেয়েকে অনেক অত্যাচার করতো হুমকি দিত। আমার মেয়ের স্বামী কানাডা প্রবাসী, কিছুদিন আগে সে বাড়িতে এসেছিল। সবাই মিলে আমার মেয়েকে অনেক নির্যাতন করতো। জোর করে আমার মেয়ের কাছ থেকে ডিভোর্স নিতে চাইতো। আমার মেয়ে ডিভোর্স দিতে না চাইলে, তার ২য় বউ ও তার সেই বউয়ের পরিবারসহ আমার মেয়েকে নির্যাতন করত। আমার মেয়ের ননদ মাটি খাতুন (১৬) তাদের সাথে মিলে থাকতো। আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি তাকে চাপে ফেলে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে এই হত্যার বিচার চাই। আত্মহত্যার বিষয়ে উত্তরখান থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে মৃতের পরিবারের কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্ত করে আইনী পদক্ষেপ