। সোহেল চৌধুরীঃ স্টাফ রিপোর্টার ঝিনাইদহে কোটচাঁদপুর রেলওয়ে ষ্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মনি দেব এবং স্টেশন কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনের নানাবিধ দুর্নীতি, অনিয়ম ও অপকর্ম ঢাকতে স্টেশনের বৈধ ইজারাদার মোঃ মনোয়ার হোসেন আল-আমিন ও তানভীরের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ দায়েরের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সর্বস্তরের এলাকাবাসী। আজ শনিবার (১১ জুলাই ২০২৬) বিকাল ৫ টার সময় কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ‘ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী’র ব্যানারে এক বিশাল মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কর্মসূচিতে স্টেশনের দুই কর্মকর্তার অবিলম্বে চাকরিচ্যুতি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে হাটের বৈধ ইজারাদার ও ব্যবসায়ী মোঃ মনোয়ার হোসেন আল-আমিন বলেন, "আমি বাংলা নববর্ষের পহেলা বৈশাখে কোটচাঁদপুর পৌরসভার হাটটি নিয়মমাফিক ভ্যাটসহ প্রায় ৩ লাখ টাকা দিয়ে সরকারিভাবে ইজারা নিয়েছি। সেই সূত্রে আমি এই হাটের বৈধ মালিক ও ব্যবসায়ী। গত ৯ জুলাই রেলওয়ে স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার মনি দেব ও মাস্টার মোশাররফের সাথে কয়েকজন ব্যবসায়ীর বাগবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে আমার নিজের দোকানের সামনে সংঘটিত হয়। এই ঘটনার সাথে আমার বা তানভীরের কোনো ধরনের দূরতম সম্পর্কও ছিল না।" তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, "নিজেদের অপকর্ম ও গণধোলাইয়ের ঘটনা আড়াল করতে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত উপায়ে আমার ও তানভীরের নামে মিথ্যা ও কাল্পনিক গল্প সাজিয়ে প্রশাসন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি এই নোংরা ষড়যন্ত্র ও প্রোপাগান্ডার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।" মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বক্তারা কোটচাঁদপুর রেল স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা মোশাররফ ও মনি দেবের বিরুদ্ধে একাধিক সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর দুর্নীতির প্রমাণ ও অভিযোগ তুলে ধরেন। বক্তব্যে প্রকাশ পায় যে: ভিআইপি রুম হকারদের কাছে ভাড়া: প্রথম শ্রেণির সম্মানিত (VIP) যাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত স্টেশনের ভিআইপি বিশ্রামাগারটি মাত্র ৫০ টাকার বিনিময়ে হকারদের কাছে অবৈধভাবে রাত যাপনের জন্য ভাড়া দেন স্টেশন মাস্টার মোশাররফ, পরবর্তীতে স্থানীয়দের হাতে নাতে ধরা পড়লে তিনি নিজের অপরাধ ঢাকতে হকারদের ওপর নির্বিচারে মারধর চালান। বুকিং ছাড়া অবৈধ চাঁদাবাজি ও গণপিটুনি: কোটচাঁদপুর রেল স্টেশন দিয়ে যাতায়াতকারী মালবাহী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো প্রকার সরকারি রশিদ (বুকিং) ছাড়াই অবৈধভাবে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা আদায় করার সময় স্থানীয় জনতা তাদের হাতেনাতে ধরে ফেলে। সে সময় জনগণের তীব্র তোপের মুখে পড়ে গণপিটুনির শিকার হন এবং পরবর্তীতে তিনি নিজের অপরাধ স্বীকার করতে বাধ্য হন। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, কোটচাঁদপুর রেলওয়ে স্টেশনটি এই অঞ্চলের একটি অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কিন্তু মনি দেব এবং মোশাররফের মতো দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের কারণে এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি আজ মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। অবিলম্বে এই দুই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করে কোটচাঁদপুর স্টেশনকে কলঙ্কমুক্ত করার জন্য রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানানো হয়। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসন দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হবে। উক্ত প্রতিবাদী মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সাথে একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন এবং অংশ নেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মোঃ রাশেদুল ইসলাম (বাপ্পি), জিয়া সাইবার ফোর্সের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মাহিদুল আলম, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মোঃ জয়নাল আবেদীনসহ এলাকার অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।