
বদরুল আমীন, ময়মনসিংহ ঃ নওশেল আহমেদ অনি ময়মনসিংহবাসীর কাছে এক আদরের নাম।রাজনৈতিক মেরু করণে আজ সে কারাগারে।শ্যোণ অ্যারেস্ট আর জেল থেকে জামিনে বের হলেই গ্রেফতার সুশীল সমাজের বিবেক আজ নাড়িয়ে দিচ্ছে!নিম্নতম নাগরিক অধিকার টুকুও নাকি পাচ্ছেনা অনি?কোথায় মানবাধিকার?রাষ্ট্র ব্যবস্থাই বা কেমন এমন হাজারো প্রশ্ন থমকে দাড়ায় অনি’র পরিবারের সামনে?
শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ- নওশেল আহমেদ অনি প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগ জন্ম : ময়মনসিংহ সদরে ৮/এ জমির মুন্সি লেন, ১৯৯৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর, নিজ পৈতৃক বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। ৩ ভাইয়ের মধ্যে সে সর্বকনিষ্ঠ। শিক্ষাগত যোগ্যতা : এস. এস. সি: ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে ২০০৮ সাল (বিজ্ঞান শাখা) এইচ. এস. সি: রয়েল মিডিয়া কলেজ থেকে ২০১০ সাল (বিজ্ঞান শাখা) স্নাতক/গ্রাজুয়েশন: ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে এল.এলবি ডিপার্টমেন্ট এ ভর্তি হয়, পরবর্তীতে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অফ বাংলাদেশ থেকে এল বি সম্পন্ন করে।
রাজনীতি: রয়েল মিডিয়া কলেজে পড়া অবস্থায় তৎকালিন নগর পিতা ইকরামুল হক টিটুর সাথে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হয়। ক্রমান্বয়ে, সিদ্দিকী নাজমুল ও বদিউজ্জামান সোহাগ স্বাক্ষরিত কমিটির ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ এর কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে, ২০২১ সালের ৩১ জুলাই আল রাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্য স্বাক্ষরিত কমিটির ময়মনসিংহ মহানগর ছাত্রলীগের "প্রতিষ্ঠাকালীন আহবায়ক" নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ যাব তার ধারাবাহিক কার্যক্রম সম্মানের সহিত পরিচালিত করে যাচ্ছে।
করোনাকালীন অবদান : করোনাকালীন মহামারী মোকাবেলায় নিঃস্বার্থ পরিশ্রম করে মানবিক কর্মী হিসেবে সকলের আস্থাভাজন হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। ঐ সময় নিজের জীবন বাজি রেখে অসংখ্য মানব সেবামূলক কার্যক্রম করেছেন, যা ময়মনসিংহ নগরবাসী সকলেই অবগত।
সরকার পতনের দিন ক্ষয়ক্ষতি সমুহ : ৫ ই আগস্ট সরকার পতনের দিন, নিজ পৈত্রিক বাড়ি, বাবার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, অমি অভি বেকারী এন্ড ডিপার্টমেন্টাল শপ, গরুর ফার্ম (হুমায়ুন এগ্রো ফার্ম)। (হরিলুট অতঃপর ভাঙচুর) বড় ভাইয়ের বাড়ি, অফিস। (হরিলুট অতঃপর ভাঙচুর) মেজ ভাইয়ের ইন্টারনেট ব্যবসা, নাহা রোডে ২টি দোকান, নীজ মৎস্য খামারে মাছ লুটের পর অবশিষ্ট বিষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি। (হরিলুট অতঃপর ভাঙচুর ও বিষ প্রয়োগ) এবং কর্মীদের বাসা ভাড়ি ও জান-মালের উপর এক ভয়ঙ্কর ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়, যেখানে ধ্বংসাবশেষ ছাড়া আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। এক ভয়ানক /ভয়ংকর পরিস্থিতির সম্মুখীন......যা কল্পনা কেউ হার মানাবে।
গ্রেফতার: দীর্ঘ সময় বন্দি জীবন ও পিছুটান রেখে ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালের রাত আনুমানিক নয়টা বিশ (৯.২০) মিনিটে ঢাকার মোহাম্মদপুর নিজ বাসা থেকে রেপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ০২ কর্তৃক, সঙ্গীয় ফোর্স সহ আটক করা হয়। পরবর্তীতে আটকৃত কে র্যাব ১৪ কর্তৃক দায়িত্ব দিয়ে ময়মনসিংহে আনা হয় এবং ময়মনসিংহ কোতোয়ালি থানা দিন সাগর হত্যা মামলার এজহারভুক্ত আসামি করে তাকে ৪ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়। (মামলা নং ১, তাং ৬ জানুয়ারি ২০২৫, জজ কোর্টে জামিন হয়) কারাগারে থাকা অবস্থায় ধাপে ধাপে অনিকে "ডিসি বাংলো ভাঙচুর" মামলায় আজহারভুক্ত আসামি করা হয়। (মামলা নং ২, তাং ২৪ ডিসেম্বর ২০২৪, জজ কোর্টে জামিন হয়) বিএনপি পার্টি অফিস ভাঙচুর মামলার এজহারভুক্ত আসামি করে। (মামলা নং ৩, তাং ১৮ ফেব্রয়ারী ২০২৫, জজ কোর্টে জামিন হয়) বর্তমান এমপি ওয়াহাব আকন্দের বাসা ভাংচুর মামলার এজহারভুক্ত নয় (অজ্ঞাত) আসামি করে। (মামলা নং ৪, তাং ২৫ জুন ২০২৫, হাইকোর্টে জামিন হয়) শম্ভুগঞ্জ বিস্ফোরক মামলার এজহারভুক্ত নয় (অজ্ঞাত) আসামি করে। (মামলা নং ৫, তাং ২৫ আগস্ট ২০২৫, হাইকোর্টে জামিন হয়) ত্রিশাল বিস্ফোরক মামলার এজহারভুক্ত নয় (অজ্ঞাত) আসামি করে। (মামলা নং ৬, তাং ২৯ মার্চ ২০২৬, হাইকোর্টে জামিন হয়) এমতাবস্থায়, মামলা নং ৫, তাং ২৫ আগস্ট ২০২৫, হাইকোর্টে জামিন হয় ৬ মাসের জন্য, পরবর্তীতে ১ বছরের এক্সটেনশন করা হয় যা মহামান্য হাইকোর্টের আদেশক্রমে আগামী ০৩/০৩/২৭ ইং তারিখ পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই মামলায় মহামান্য হাইকোর্টের আদেশক্রমে আগামী ১ বছর জামিনে থাকার পরও ২২/০৪/২৬ ইং তারিখে পুনরায় গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয় এবং ১৫ দিন কোন মামলা ছাড়া অন্যায় ভাবে আটক রেখে, পুনরায় ৫ই মে ২৬ মঙ্গলবার মুক্তাগাছার বিস্ফোরক মামলায় আজাহার ভুক্ত নয়/অজ্ঞাত গ্রেফতার দেখানো হয়, শোন এরেস্ট দেখায়ে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। অসুস্থতা : দীর্ঘ প্রায় ২ বছর কারাবাসের পর আজ ৯/৫/২৬ ইং (৫৮৬ দিন) শারীরিক নানাবিদ অসুস্থতা দেখা দিয়েছে, এলার্জি (স্কিন ফাঙ্গাস), শ্বাসকষ্ট (এজমা), মূত্রনালীতে ইনফেকশন, অনিদ্রা, চোখের জ্যোতি কমে যাওয়া ও ঝাপসা দেখা, উচ্চ রক্তচাপ (ব্লাড প্রেসার), ডায়াবেটিস সহ ঋতু পরিবর্তন কালিন জ্বর ঠান্ডা কাশি ইত্যাদি প্রায়শই চলমান। উল্লেখ্য: ২ দফায় বিভাগীয় মেডিকেল হাসপাতালের প্রিজন সেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন যা সরকারি কাগজপত্রে প্রমাণাদিন আছে। পারিবারিক অবস্থা : দীর্ঘ সময় মামলা পরিচালনা করা, তার উপর একের পর এক অন্যায় ভাবে অহেতুক মামলা দেয়া, ব্যবসা-বাণিজ্য বাসস্থান সব ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরে পরিবারের আর্থিক অবস্থা, মানসিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। বাবা হার্টের রোগসহ নানাবীধ অসুস্থতা, মার বয়স হয়েছে শোকে পরিবারটা একদম বিপর্যস্ত।