জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাহাপুর বাজারে দুইতলা ভবনসহ একটি জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমির ক্রেতা মো. ওমর ফারুক আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্ত ফারুক হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। অভিযোগকারী মো. ওমর ফারুক, পিতা মৃত মঙ্গল আলী খান, গ্রামের নিধিকুণ্ড। তিনি জানান, ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সাহাপুর বাজারের মৃত রবিউল মেম্বারের ছেলে ফারুক হোসেনের কাছ থেকে সাহাপুর বাজারে অবস্থিত দুইতলা ভবনসহ ৫.৮৬ শতক জমি মোট ৮২ লাখ টাকায় ক্রয় করেন। ওমর ফারুকের অভিযোগ, ওই সম্পত্তির মূল দলিল ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর রূপালী ব্যাংক শাখায় বন্ধক রেখে ফারুক হোসেন ২৫ লাখ টাকা সিসি ঋণ গ্রহণ করেছিলেন। পরে সুদ-আসলে ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকায় দাঁড়ায়। তিনি নিজ ব্যাংক হিসাব থেকে ঋণের টাকা পরিশোধ করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে জীবননগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আইনানুগভাবে তার নামে জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়। রেজিস্ট্রির পর তিনি জানতে পারেন, একই সম্পত্তি এর আগেই ফারুক হোসেন কথিতভাবে তার স্ত্রী আফরোজা খাতুনের নামে হেবা দলিল করে দিয়েছেন। পরে জমির দখল নিতে গেলে তাকে বিভিন্ন আইনি জটিলতায় পড়তে হয়। বিষয়টি নিয়ে জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান খোকন খানের উদ্যোগে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে তিনি জমির দখল পান বলে দাবি করেন। অভিযোগকারী আরও বলেন, এরপর তার বিরুদ্ধে স্থানীয় একটি পত্রিকায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয় এবং আদালতে মামলাও করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থন ও প্রতিকার চেয়ে তিনি ফারুক হোসেনসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। ওই মামলায় ফারুক হোসেন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন বলে তিনি জানান। এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওমর ফারুক ওই জমি ক্রয় করেছেন বলে তারা জানেন। তবে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আফরোজা খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ বিষয়ে আদালতে বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।