। রিজওয়ান নওগাঁ। আজকের এই ঘটনাটি শুধু একটি খবর নয়, বরং একেবারে ভেতরটা নাড়িয়ে দেওয়ার মতো বাস্তবতা।একটি পরিবারের সবকটি প্রান কেড়ে নিয়ে ইহুদিদের গনহত্যা চালু করার মতো একটি বীভৎসতা। নওগাঁ জেলার উত্তর-- পশ্চিমের জনপদ বহুল নিয়ামতপুরে এক রাতেই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল একটি পরিবার। ঠিক যেন একরাতেই যমন ইহুদিরা রাফা শহর মাটির সাথে মিশিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল,ঠিক তদ্রূপ ঘুমন্ত অবস্থায় বাবা-মা আর দুই শিশু সন্তানের গলা কেটে হত্যা করে একটি পরিবারের সকল সচল চাকা ও প্রান স্তব্ধ করে দিয়েছে জীবন্ত দানবরূপি ঘাতক। এই দৃশ্য কেবল একটি অপরাধের বর্ণনা নয়, আমাদের সমাজের সামাজিক নিরাপত্তা ক্রমশ কঠোর হয়ে ওঠা বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) গভীর রাতে এই থানাধীন বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে ঘটে যায় এই মর্মান্তিক বীভৎ ঘটনা। নিহত হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ৯ বছরের ছেলে পারভেজ এবং মাত্র ৩ বছরের শিশু সাদিয়া-একই ঘরে, একই পরিণতিতে নির্মমতার শিকার। জানা যায়, ভোরের আলো ফোটার আগেই সব শেষ। ফজরের নামাজের পর দরজা হাএ করে খোলা দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ, তারপর আস্তে আস্তে ভেতরে ঢুকে যে দৃশ্য তারা দেখেছেন, তা কোনো স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে সহজে ভুলে যাওয়ার নয়- মনে হয় কোন কাপালিক বা তন্ত্রসাধক বা রক্তপিপাসু এলিয়েন চারটি প্রান কেড়ে নিয়ে চলে গেছে, নিথর দেহগুলি একসঙ্গে পড়ে আছে,চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে রক্তের ধারা। প্রকাশ থাকে যে, প্রাথমিকভাবে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই ঘটান হয়েছে এই পাষন্ডতা ও নির্মমতা। কিন্তু উৎসুক জনতার প্রশ্নঃ-এক টুকরো জমি কি এতটাই মূল্যবান, যার জন্য একটি পুরো পরিবারকে এভাবে হত্যা করা যায়? নাকি এর পেছনে আরও গভীর কোনো দ্বন্দ্ব, শত্রুতা বা সামাজিক অবক্ষয় কাজ করছে? নিহত পপির বাবা মোয়াজ্জেম হোসেনের কান্না এই ঘটনার সবচেয়ে নির্মম প্রতিধ্বনি-"আমার মেয়ে.জামাই, নাতিও নাতনি কে যারা খুন করেছে তাদের ফাঁসি চাই"। পুলিশ বলছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো-এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড বারবার আমাদের সামনে একটাই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়: আমরা কি ধীরে ধীরে এমন এক সমাজে পরিণত হচ্ছি, যেখানে দ্বন্দ্বের সমাধান হয় রক্ত দিয়ে? প্রান বিসর্জন দিয়ে --? এই চারটি প্রাণের নিভে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা, নৈতিকতা এবং মানবিকতার ওপর বড় একটি আঘাত ও বিপর্যয় । জামাই, নাতি-নাতনিকে যারা হত্যা করেছে, তাদের ফাঁসি চাই।” এই দাবি শুধু একজন বাবার নয়, বরং ন্যায়বিচারের জন্য সমাজের সম্মিলিত আর্তনাদ। পুলিশ বলছে, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো-এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড বারবার আমাদের সামনে একটাই প্রশ্ন ছুঁড়ে দেয়: আমরা কি ধীরে ধীরে এমন এক সমাজে পরিণত হচ্ছি, যেখানে দ্বন্দ্বের সমাধান হয় রক্ত দিয়ে? এই চারটি প্রাণের নিভে যাওয়া শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা, নৈতিকতা এবং মানবিকতার ওপর বড় একটি আঘাত। এ প্রসঙ্গে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার জানান,এটি ডাকাতির কোন ঘটনা নয়,অন্য কোন কারনে এই নির্মম লোমহর্ষক হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদেরজন্য কয়েকজন কে হেফাজতে নেয়া হয়েছে, আমরা আশাবাদী খুব শীগগির এর আসল কারন অবগত হওয়া যাবে।