
। রিজওয়ান নওগাঁ। নওগাঁয় সরকারি দপ্তরের আয়োজনে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সুলভ মূল্যে প্রাণিজ পণ্য বিক্রয় কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলার একটি মাত্র সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানো এবং বাকিদের উপেক্ষা করায় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে বলে অবগত হওয়া যায়। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) সকাল ১১টায় নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কার্যালয় প্রাঙ্গণে সুলভ মূল্যে দুধ ও ডিম বিক্রয় কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়। সাধারণ মানুষের কাছে সুলভ ও সাশ্রয়ী মূল্যে আমিষ জাতীয় খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার মহৎ উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র বিতরণ কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর কেবল ‘নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাব’কে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অথচ জেলায় কর্মরত আরও বেশ কয়েকটি সক্রিয় ও স্বীকৃত সাংবাদিক সংগঠনকে পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। সরকারি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে এমন ‘বাছাইকৃত’ আমন্ত্রণকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বৈষম্যমূলক হিসেবে দেখছেন সংবাদকর্মীরা। ”জেলায় একাধিক সাংবাদিক সংগঠন রয়েছে। সরকারি কোনো দপ্তরের আয়োজনে সব স্বীকৃত সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানোই নিয়ম। একটি সংগঠনকে ডেকে অন্যদের বাদ দেওয়া দুঃখজনক এবং অপেশাদারিত্বের পরিচয়।” — সাব্বির আহমেদ, সভাপতি, ইউনাইটেড প্রেসক্লাব নওগাঁ। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার মুখে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মাহফুজার রহমান দায় স্বীকার করেছেন। তিনি জানান: অন্য সংগঠনগুলোকে না ডাকার বিষয়টি ইচ্ছাকৃত ছিল না। সমন্বয়হীনতা এবং দাপ্তরিক কাজে ঢাকা অবস্থানের কারণে সবার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে সব সংগঠনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার আশ্বাস দেন তিনি। উল্লেখ্য, ডাঃ মোঃ মাহফুজার রহমান ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নওগাঁয় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। ইউনাইটেড প্রেসক্লাব, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) নওগাঁ জেলা শাখা সহ অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকারি দপ্তরগুলো যদি ভবিষ্যতে সব সাংবাদিক সংগঠনের সাথে সমন্বয় না করে এবং পক্ষপাতমূলক আচরণ বজায় রাখে, তবে তারা কঠোর কর্মসূচি পালন করতে বাধ্য হবেন। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও পেশাদার পরিবেশ বজায় রাখতে সরকারি দপ্তরগুলো নিরপেক্ষতা বজায় রাখবে। এতে সকলের সঙ্গে সৌহার্দ্য পূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের উদয় হয়।
Leave a Reply