। রিজওয়ান নওগাঁ। নওগাঁ শহরে এক স্কুলছাত্রীকে সড়কে ইভটিজিং ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পুলিশ সুপারের সরাসরি নির্দেশনায় তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৬ এপ্রিল) আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে নওগাঁ শহরের একটি ঐতিহ্যবাহী স্বনামধন্য বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী স্কুল শেষে হেঁটে বাড়ি ফিরছিল। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা এক যুবক তার পথরোধ করে এবং শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে শরীরে স্পর্শ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এই অপ্রীতিকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ছাত্রীটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে এবং আতঙ্কে স্কুলে যেতে অনীহা প্রকাশ করে। ঘটনাটি জানতে পেরে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করেন। তিনি জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) অতি দ্রুত অপরাধীকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের নির্দেশ প্রদান করেন। ডিবির একটি চৌকস টিম শহরের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। অভিযুক্তের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার মধ্যরাতে তার নিজ বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম মো. গোলাম মোস্তফা ওরফে রাব্বি (২৭)। সে নওগাঁ জেলার কাদোয়া (উত্তরপাড়া) এলাকার বাসিন্দা। অভিযানের সময় ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং অভিযুক্তের পরিহিত শার্টটি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাব্বি ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। জানা গেছে, ইতিপূর্বেও সে বিভিন্ন স্কুলছাত্রীদের ইভটিজিং ও অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক স্পর্শ করার মতো অপরাধে লিপ্ত ছিল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর মা নওগাঁ সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। "সড়কে ইভটিজিং কিংবা স্কুলছাত্রীদের শ্লীলতাহানির মতো অপরাধের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অপরাধীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে "-- এ কথা বলেন, জ্বনাব মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, নওগাঁ। এই ঘটনার দ্রুত সমাধানে স্থানীয় সচেতন মহল নওগাঁ জেলা পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। একইসাথে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনের লক্ষে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত ও চলমান রাখার দাবি জানানো হয়েছে। ইভটিজিং বা উত্যক্তকরন বা শ্লীলতাহানি অথবা ধর্ষন সমাজে বর্তমানে ক্যানসারের মতো বিস্তার লাভ করছে। প্রশাসনের তৎপরতা ও সামাজিক গনসচেতনতার উপর এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ একান্ত জরুরি বলে ও অনেকেই মনে করছেন।