শান্তি আক্তার :নওগাঁ প্রতিনিধি: ফৌজদারি মামলায় আদালতের আদেশে সাতদিন হাজতবাসের পরও সরকারি চাকরিতে বহাল রয়েছেন নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর-পাড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) মোঃ মাহাবুব আলম। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী হাজতবাসের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি এখনো দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়ামতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রেজাউল করিমের প্রশাসনিক আশ্রয় ও মদদেই মাহাবুব আলম বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে ওই ভূমি অফিসে নামজারি ও খাজনা আদায়সহ বিভিন্ন সেবায় অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় একজন ভুক্তভোগী সচেতন নাগরিক রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, নওগাঁ জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বরাবর হাজতবাসের প্রমাণাদিসহ লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। হাজতবাসের পরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নায়েব মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে নওগাঁর বিজ্ঞ ২ নম্বর আমলী আদালতে সিআর ৮২৪/২০২৩ (মান্দা) নম্বরের একটি ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। ওই মামলায় আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি সাতদিন কারাগারে আটক ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, সরকারি চাকরি আইন ও সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী কোনো সরকারি কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় আদালতের আদেশে কারাগারে আটক হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু মাহাবুব আলমের ক্ষেত্রে এমন কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। বহিরাগত ব্যক্তিকে দিয়ে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, মাহাবুব আলম তাঁর অফিসে বিজয় মহন্ত নামে একজন বহিরাগত ব্যক্তিকে অবৈধভাবে কাজে নিয়োজিত রেখেছেন। ওই ব্যক্তি ভূমি অফিসে আসা সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন কাজের বিষয়ে আর্থিক লেনদেন করেন বলে অভিযোগকারীর দাবি। ৩৬ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ নিয়ামতপুর উপজেলার বনগাঁপাড়া গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে মোঃ আতাহার আলী (পল্টু) অভিযোগ করেন, তাঁর স্ত্রী মোছাঃ হাফসা বেগমের নামে থাকা বনগাঁপাড়া মৌজার জমির অনলাইন খাজনা পরিশোধের জন্য ভূমি অফিসে গেলে তাঁর কাছে ৩৬ হাজার টাকা দাবি করা হয়। অভিযোগকারীর দাবি, নায়েব মাহাবুব আলমের হয়ে বহিরাগত বিজয় মহন্ত ওই অর্থ দাবি করেন। টাকা না দিলে কাজ হবে না বলেও জানানো হয়। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ওই টাকার একটি অংশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রেজাউল করিমকে দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এসিল্যান্ডের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগকারীর দাবি, নায়েব মাহাবুব আলমের বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি মামলা, হাজতবাস এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সম্পর্কে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রেজাউল করিম অবগত থাকলেও কোনো কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীরা বিষয়টি তদন্ত করে নায়েব ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত নায়েব ও বহিরাগত ব্যক্তির কথিত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে মোবাইল ফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ যাচাইয়েরও দাবি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রেজাউল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এখন খুব বিজি (ব্যস্ত) আছি, পরে সময় করে কথা বলবো।” অন্যদিকে, নায়েব মোঃ মাহাবুব আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তদন্তের আশ্বাস এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নায়েবের হাজতবাসের প্রমাণাদিসহ লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করে তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা পাওয়া গেলে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল।