রিজওয়ান, নওগাঁ। নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের মোমিনপুর হাট নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বড় পাইকারি কাঁচা লংকা বা মরিচের হাট। সপ্তাহে মঙ্গলবার ও শুক্রবার দুই দিন হাটবার। এ'হাটে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকারেরা কাঁচা মরিচ কেনার জন্য আসেন। গত মঙ্গলবার (২৩জুন) ও শুক্রবার ( ২৬ শে জুন) হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রতি কেজি কাঁচা লংকা বা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। হঠাৎ দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।তাঁরা বলছেন, এ রকম বাজার দাম থাকলে অনেক লোকসান হবে খরচ উঠবে না। হাটপাঁঠাকাটা এলাকা থেকে আসা কৃষক ওসমান আলী ও খালেক জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাঁচা মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু হাটে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন খরচই উঠা দূর্দায় হয়ে পড়েছে। অথচ মরিচ চাষে খরচ হয়েছে অনেক। এখন পর্যন্ত তারা যে পরিমাণ বিক্রি করেছেন তা দিয়ে শ্রমিকের মজুরি, কীটনাশক খরচ মিটিয়ে কিছুই থাকবে না। প্রথমে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হয়েছিল ১৩০-১৫০ টাকায় আর এখন তা ৩০-৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বগুড়ার কাঁচা মরিচের ব্যবসায়ী সুব্রত পাল জানান, এই হাটের মরিচ ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় যায়। মোমিনপুর হাট কমিটির সাধারণত সম্পাদক ফিরোজ হোসেন জানান, জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় কাঁচা মরিচের হাট এটি। বছরে ৬ থেকে ৭ মাস চলে এ হাট। আর প্রতি মাসে কাঁচা মরিচের বেচাকেনা হয় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা। তবে এখন যেভাবে দাম কমে গেছে কৃষকদের লোকসান হচ্ছে। হাট কমিটির সভাপতি সাদেক হোসেন জানান, এ হাটে কৃষকদের কাছ থেকে কোন টোল আদায় করা হয় না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মনজুর রহমান জানান, আবহাওয়া ভালো হওয়ায় কাঁচা মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। প্রথমে বাজার ভালো দাম ছিল, কিন্তু এখন কিছুটা কম । আগের মতো হলে কৃষকরা বেশ লাভবান হবেন। তাই কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শসহ সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। এ বছর নওগাঁ জেলায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়েছে।