শান্তি আক্তার নওগাঁ প্রতিনিধি নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ভয়াবহ হামলা, নারী হত্যা ও গুরুতর আহতের ঘটনায় অবশেষে আন্তজেলা সিরিয়াল অপরাধী গোলাম মোরশেদ ওরফে মোরশেদ আলম (২৭)-কে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত নওগাঁর ধামইরহাট, বদলগাছি ও পত্নীতলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ করে নারী ভিকটিমদের মাথায় ভোতা অস্ত্র, বাঁশ, লোহার শাবল ও টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যেত ওই অপরাধী। এসব ঘটনায় একজন কলেজছাত্রী নিহতসহ একাধিক নারী গুরুতর আহত হন। ধারাবাহিক এসব ঘটনার কারণে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তদন্তে জানা যায়, গত ১৮ জানুয়ারি ধামইরহাট উপজেলার নানাইচ ও জাহানপুর এলাকায় হাসান আলীর কলেজপড়ুয়া মেয়ে উম্মে হাবিবার ঘরে প্রবেশ করে তার মাথায় টিউবওয়েলের হ্যান্ডেল দিয়ে আঘাত করে মোরশেদ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় উম্মে হাবিবার মৃত্যু হয়। একই রাতে আরও কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি ধামইরহাটে এবং ৭ মে বদলগাছি উপজেলার দুর্গাপুর, ঘোয়ালভিটা ও নয়নশহর এলাকায় একই কায়দায় একাধিক নারীর ওপর হামলা চালানো হয়। সর্বশেষ ৪ জুন পত্নীতলা উপজেলার শিমুলিয়া ও নান্দাশ গ্রামে দুই বাড়িতে প্রবেশ করে তিন নারীকে গুরুতর আহত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্ত। ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জয়ব্রত পালের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট থানার সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় দীর্ঘ তদন্তের পর অভিযুক্তকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। পরবর্তীতে ১০ জুন ভোরে গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার শরীফপুর কোনাপাড়া এলাকা থেকে গোলাম মোরশেদ ওরফে মোরশেদ আলমকে গ্রেফতার করা হয়। তার বাড়ি দিনাজপুর জেলার বিরামপুর উপজেলার পাতহাট এলাকায়। জিজ্ঞাসাবাদে মোরশেদ ধামইরহাটে উম্মে হাবিবা হত্যাসহ নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত আটটি বাড়িতে হামলার কথা স্বীকার করেছে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পুলিশের দাবি, একই ধরনের অপরাধ জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন এলাকাতেও সংঘটিত হয়েছে। এসব ঘটনায় দুই নারীর মৃত্যুর সঙ্গেও মোরশেদের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন স্থানে মোট ১৭ থেকে ১৮ জন ভিকটিমের ওপর হামলা চালিয়েছে সে। এ ঘটনায় নওগাঁ জেলার বিভিন্ন থানায় হত্যা মামলাসহ চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলার সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতেও তাকে গ্রেফতার দেখানোর প্রক্রিয়া চলছে। নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তের মাধ্যমে এই চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে। নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে যেকোনো অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বদ্ধপরিকর।” ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং দীর্ঘদিনের আতঙ্কের অবসান হওয়ায় স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।