নিজস্ব প্রতিবেদক
কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে সাংবাদিকতার আড়ালে তেলের সিন্ডিকেট গড়ে তুলে উচ্চমূল্যে জ্বালানি বিক্রির অভিযোগে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন একটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক সুজন মাহমুদ। এ ঘটনায় উপজেলা ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উঠেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে রাজিবপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আহমেদের একটি ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে।
পোস্টে তিনি দাবি করেন, তেলের সংকটের সুযোগ নিয়ে সুজন মাহমুদ তাদের কাছে প্রতি লিটার পেট্রোল ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২৫ লিটার তেলের জন্য মোট ৭ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়।
একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায়-সুজন মাহমুদ জেরিকেনে করে তেল সরবরাহ করছেন এবং উপস্থিত কয়েকজন তা গ্রহণ করছেন।
ভিডিওতে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল মিয়াকে তেল নিতে দেখা যায় এবং শামীম আহমেদকে অর্থ পরিশোধ করতে দেখা যায়।
ভিডিওর একপর্যায়ে একজনকে বলতে শোনা যায়, “যুবদল, ছাত্রদল ও সাংবাদিক মিলে তেলের সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পাম্প থেকে কম দামে তেল সংগ্রহ করে তা মজুত রাখা হতো এবং পরে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির কাছে বেশি দামে বিক্রি করা হতো। এ তেল উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রঞ্জুর দোকানে সংরক্ষণ করা হতো বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনার ভিডিও ও পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজিবপুর উপজেলাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শামীম আহমেদ বলেন, তেলের তীব্র সংকট ছিল। সে সময় সুজন সাংবাদিক আমাদের কাছে ৩০০ টাকা লিটার দরে তেল বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে আমরা বাধ্য হয়ে তা কিনি। তিনি সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন পাম্প থেকে তেল এনে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেশি দামে বিক্রি করেন।
তবে অভিযুক্ত সাংবাদিক সুজন মাহমুদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি নিজের ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, বিষয়টি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে