
যাদব চন্দ্র রায়।। দিনাজপুর প্রতিনিধি।। দিনাজপুর ফুলবাড়ী উপজেলার ২ নং আলাদীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের অন্তর্গত বাসুদেবপুর গ্রামের মৃত মহসিন সরকার এর পুত্র পুলিশ এবং আনসার ও গ্রাম্ প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হিসেবে চাকুরীতে কর্মরত রয়েছেন। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, নিজ চাচাতো ভাইয়ের বসত বাড়ি জমি-ভিটা দখল করে নেওয়ার অভিযোগে দিনাজপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফুলবাড়ী আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের হয় । যার মামলা নং ১৮৪/২৬ সি,আর, তারিখঃ ১১/০৫/২০২৬ ইং। বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন মোহাম্মদ হাশিম রেজা (৪৩) । মামলাটি আনয়ন করিলে আগামী ২৪/০৬/২০২৬ ইং তারিখে ফুলবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জকে তদন্ত সাপেক্ষে রিপোর্ট দাখিলের আদেশ প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত। জানা গেছে, প্রবাসী বাদী মোহাম্মদ হাশিম রেজা ১৮৪/২৬ সি.আর মামলাটি ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৩ এর ৪ (১) (ক), ৪ (১) (চ), ৪ (২) ৭ (১), ৭ (২)/৭(৩) ১০ নং ১৬ ধারা তৎসহ দন্ড বিধি আইনের ৫০৬ (।।) ধারা মতে আসামীগণের নাম ১। মোঃ মোশারফ হোসেন (৫৬), পিতা-মরহুম মহসিন সরকার, ২। মোঃ মাজেদুর রহমান মাসুদ (৪৮), ৩। মোছাঃ মর্সেদা বেগম, (৩৮) স্বামী-মোঃ মোশারফ হোসেন, ৪। মোঃ ওয়াজেদুর রহমান (৬৫) পিতা-মরহুম বাহাউদ্দীন সরকার, ৫। কায়ুউম সরকার (৭৬), পিতা-মরহুম বাহারউদ্দীন সরকার, সর্ব সাং-বাসুদেবপুর, ডাকঘর-খয়েরবাড়ী, থানা-ফুলবাড়ী, জেলা-দিনাজপুর এর বিরুদ্ধে আনয়ন করেছেন। বাদী তার আরজিতে উল্লেখ করেছেন, জেলা-দিনাজপুর থানা-ফুলবাড়ী, মৌজা-বাসুদেবপুর, জে,এল, নং-৬৮, খতিয়ান নং-২৫/১৩৫৫, মিউটেশন মামলা নং-১৮-২০(IX)/২০২৫-২০২৬ এর ৭.২০ শতক সম্পত্তি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত হইয়া খাজনা-খারিজ করে ভোগ দখলে আছেন। আসামীগন বাদীর জমি-ভিটার নির্ধারিত সীমানা থাকা সত্তেও অবৈধ ভাবে জমি-ভিটা জবর দখল করার চেষ্টা করেন। মামলার বাদী তাহার জমি-ভিটার সীমানা মাপযোগের আবারো উদ্যোগ গ্রহন করতে গেলে আসামীগন মাপযোগে বাধা প্রদান করতঃ বাদী জমির উপর অবৈধভাবে সেভটি ট্যাংক নির্মান করার চেষ্টা করেন। বাদীর বোন, বাদীর মাতা আসামীগনকে সেভটি ট্যাংক নির্মান না করার জন্য বলিলে আসামীরা উহাতে কর্নপাত না করিয়া বাদী এবং তাহার বোন, মাতাকে খুন করিবে মর্মে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন। মামলার ১নং আসামী মোঃ মোশারফ হোসেন, পিতা-মরহুম মহসিন সরকার, ২নং আসামী মোঃ মাজেদুর রহমান, পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং অপর জন আনসার এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য হওয়ায় তারা বাদীকে বলেন, আমরা আইনের লোক, যদি পারো তাহলে কিছুই করো, তোমরা কিছু করতে পারবে না। আরও জানা গেছে, ১-২ নং আসামীগন আইন রক্ষাকারী সদস্য হয়েও আইন অমান্য করায় বাদী প্রবাস থেকে তাহার মাতামহের জীবনের ঝুঁকি থাকায় এতদিন পদক্ষেপ নিতে পারে নাই। জীবন রক্ষার্থে বাদী মা, স্ত্রী ও কন্যা সন্তানকে অনত্র সরিয়ে নেয়। মামলার ১-৫ নং আসামীগন একটি সংঘবদ্ধ চক্র। গত ১৫/১১/২০২৪ ইং তারিখে সকাল অনুমান ১০ ঘটিকার সময় আমাদের বাড়ীর জমিতে বিবাদীর অবৈধ নির্মিত বাড়ির সেফটি ট্যাংকির পাশেই আরো একটা গর্ত খুড়তে থাকে উক্ত সময় আমার মাতা বিবাদীকে বাধা দিতে গেলে বিবাদী আমার মাতার কোন কথাই কর্ণপাত না করে জোর পূর্বক অবৈধভাবে গর্ত খুড়তে থাকে।এই বিবাদীগণেরা ভূমি দস্যু ও অত্যান্ত দাঙ্গাবাজ দূর্দান্ত প্রকৃতির মানুষ। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের প্রভাব ও প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে জোর পূর্বক আমার বসত বাড়ির ভিটা দখল করে নেয়। বাদী বিদেশে থাকা সুবাদে বাদীর জমির সীমানায় সেভটি ট্যাংক নির্মান করে এবং ট্যাংকির পার্শ্বে বহিরাগত ১৫/২০ জন ভাড়াটে লোকজন সংগ্রহ করিয়া ১নং আসামী তাহার বাড়ীর ময়লা-দুর্গন্ধ যুক্ত পানি ফেলার জন্য বাদীর আনুমানিক ২-৩ শতাংশ জমিতে জোর পূর্বক গর্ত/খাল খনন করায় বাদী বাধা প্রদান করেন। বাদীর বোন মামলার ১নং সাক্ষী স্থানীয় ফুলবাড়ী থানা অফিসার ইনচার্জ এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফুলবাড়ী বরাবর ১-৫ নং আসামী বিরুদ্ধে বাদীর জমি-ভিটার সীমানা নির্ধারনের জন্য দরখাস্ত দাখিল করেন অবশেষে বাদী, বাদীর বোন, সাক্ষী, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফুলবাড়ী উভয়ে জমি-ভিটা মাপযোগ করতঃ একটি খষড়া নক্সা তৈরী করিয়া সীমানা নির্ধারন করিয়া দিলেও ১-৫ নং আসামীগন অসৎ উদ্দেশ্যে প্রনোদিত ভাবে ও পরস্পর যোগসাজসে ঘটনার দিন অর্থাৎ গত ২৮/০৪/২০২৬ ইং এবং প্রতিনিয়ত ১নং আসামী নিজেকে আনসার ও ভিডিপি সদস্য, ২নং আসামী পুলিশে সিপাহী পদে কর্মরত সরকারী কর্মচারী পরিচয় দিয়া বাদীর তপশীল বর্নিত সম্পত্তির সন্নিকটে আসিয়া বাদীর জমি-ভিটার মালিকানা দাবী করিয়া সম্পত্তির জবর দখল এবং সেভটি ট্যাংকের পার্শ্বে গর্ত খনন করেন। এবং ১-৫ নং আসামীর নেতৃত্বে আরোও কিছু ভাড়াটিয়া লোকজন বাদীর তপশীল ভুক্ত ৭.২০ শতক জমির পশ্চিম পার্শ্বে আনুমানিক ২ থেকে ৩ শতাংশের উপর গর্ত/খাল খনন করেন। বাদী ও এলাকাবাসী উক্তরুপ কাজে ১-৫ নং আসামীদের বাধা নিষেধ করিলে আসামীগনের ভাড়াটিয়া লোকজন দা, কুঠার, হাসুয়া হত্যাদি মারাত্মক অস্ত্র দেখাইয়া বাদী ও বাদীর পরিবারের সদস্যদের খুন করিবে মর্মে হুমকি দিতে থাকেন। সাক্ষীগন ঘটনা দেখিয়াছে, শুনিয়াছে এবং জানে। এলাকার লোক মারফত জানা গেছে ১নং ও ২নং অভিযুক্ত আসামী সরকারী কর্মচারী হয়ে কি ভাবে প্রচুর সম্পদের মালিক বনে গেছেন তা সন্দেহাতীত। তাই মামলার বিষয়টি লইয়া স্থানীয় এলাকায় চানচল্যের সৃষ্টি হইয়াছে।
Leave a Reply