
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার নতুনপাড়া গ্রামে পূর্ব বিরোধের জেরে এক পরিবারের ওপর হামলা, মারধর ও বসতবাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ৯ জনকে আসামি করে জীবননগর থানায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, নতুনপাড়া গ্রামের মো. ইকবাল হোসেন অভিযোগ করেন, গত ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে পুলিশের সোর্স সন্দেহে সৃষ্ট বিরোধের জেরে একই গ্রামের হাসান আলী, সুজাউদ্দিন, আমিন উদ্দিন, সেকেন আলী, মামুন, রাইসুল ইসলাম, ফুরকান হোসেন, প্রান্ত ও ছবে খাতুনসহ ৯ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্তরা প্রথমে ইকবাল হোসেনের বড় ভাই নাজমুল হককে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে লাঠি, কিল-ঘুষি ও লাথি দিয়ে মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে মা নার্গিস খাতুনকেও মারধর করা হয়। পরে পরিবারের অন্যান্য সদস্য কনিকা খাতুন, আলিফা খাতুন, শরিফুল ইসলাম ও জুলিয়া খাতুন এগিয়ে এলে তাদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় দেড় বছরের শিশু ওমর ফারুককে ছুড়ে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া এক নারীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগও করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার মুখে নাজমুল হক প্রতিবেশী মনিরুল ইসলামের বাড়িতে আশ্রয় নিলে সেখানেও অভিযুক্তরা প্রবেশ করে তাকে মারধর করেন এবং ঘরে থাকা ফ্রিজ, ফ্যান, লাইটসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আহতদের জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলায় থানায় অভিযোগ দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করেছেন অভিযোগকারী। জীবননগর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এজাহার গ্রহণ করে বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
Leave a Reply