
নওগাঁ প্রতিনিধি :
নওগাঁর মহাদেবপুরে পিকআপ ভ্যান থামিয়ে ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় দ্রুত অভিযান চালিয়ে রাতের মধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও মহাদেবপুর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ২০ মিনিটে মহাদেবপুর উত্তরগ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশে ফাঁকা সড়কে একটি পিকআপ ভ্যান বিকল হয়ে পড়ে। এ সময় মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা পিকআপের চালক সোহেল রানা ও ম্যানেজার মজনু মিয়াকে মারধর করে মালামাল বিক্রির নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হাসিবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি শক্তিশালী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পাশাপাশি মহাদেবপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অল্প সময়ের মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করে। এরপর ডিবি পুলিশ ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে প্রথমে মুন্না (২৪) নামে একজনকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
মুন্নার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিন (২৫) নামে আরেকজনকে মহাদেবপুরে তার ভাড়া বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগী পিকআপচালক সোহেল রানা (২৫)-কে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনায় চালক সোহেল রানা ও মুন্না জড়িত ছিল এবং ছিনতাইয়ের ঘটনায় রবিন প্রধান ভূমিকা পালন করে। তারা গত এক সপ্তাহ ধরে এ ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় মোট ছিনতাইকৃত ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকার মধ্যে ৯ লাখ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১০ হাজার টাকা উদ্ধারে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই ও ডাকাতির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। অপরাধীদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।”
দ্রুততম সময়ে অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার এবং অধিকাংশ টাকা উদ্ধার করায় জেলা পুলিশের তৎপরতার বিষয়টি সামনে এসেছে।
Leave a Reply