
: সাংবাদিক ও সমাজকর্মী যাদব চন্দ্র রায়…………. …………………………………………………………………………………………….. রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং নিয়মিত সহযোগিতা ক্ষেত্রগুলোকে যখন ব্যক্তিস্বার্থ, রাজনৈতিক ফায়দা কিংবা নিছক নাম কামানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন সাধারণ মানুষের মনে এমন প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক—”এই নেতিবাচক রাজনীতি থেকে এই জাতি কবে মুক্তি পাবে?” ক্ষমতার লোভ আর আত্মকেন্দ্রিকতার এই বৃত্ত ভাঙতে প্রয়োজন এমন কিছু মানুষের, যাঁরা নিঃস্বার্থভাবে মাঠপর্যায়ে সমাজ পরিবর্তনে কাজ করেন। এমনই একজন ব্যক্তিত্ব হলেন সাংবাদিক যাদব চন্দ্র রায়, যিনি একই সাথে দিনাজপুরের কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (CDC)-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিচে তাঁর কর্মজীবন ও আদর্শের আলোকে একটি বিশ্লেষণধর্মী লেখা তুলে ধরা হলো: ১. লেখনী ও সাংবাদিকতায় সততা: সাংবাদিকতা হলো সমাজের দর্পণ। একজন সৎ সাংবাদিক হিসেবে যাদব চন্দ্র রায় ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি এবং সস্তা প্রচারণামূলক রাজনীতির বিরুদ্ধে কলম ধরেন। রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধাকে যখন কিছু সুবিধাবাদী মানুষ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে, তখন সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায় সেই অনিয়মগুলোকে সাধারণ মানুষের সামনে উন্মোচন করা। তাঁর লেখনী সমাজকে সচেতন করতে এবং সুবিধাবাদী রাজনীতির প্রকৃত চেহারা তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২. টেকসই তৃণমূল উন্নয়ন CDC: শুধু সমালোচনা করাই শেষ কথা নয়, সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তন আনাও জরুরি। কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (CDC), দিনাজপুর-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে তিনি কেবল একজন পর্যবেক্ষক নন, বরং একজন মাঠপর্যায়ের কর্মী। তাঁর নেতৃত্বে সংস্থাটি নিম্নোক্ত মূল বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে: টেকসই গ্রাম উন্নয়ন: গ্রামীণ এলাকায় টেকসই ভিলেজ ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (VDO) গঠনে ভূমিকা রাখা। মানবাধিকার ও আইনি সহায়তা: নারী, শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় আইনি সচেতনতা তৈরি। পরিবেশ ও জলবায়ু ন্যায়বিচার: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা সৃষ্টি। জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি: প্রযুক্তি ব্যবহার করে ই-হেলথ সেবা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ৩. ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি বনাম প্রকৃত সমাজসেবা: বর্তমান সময়ে যখন অনেক ক্ষেত্রে নাম-যশ বা ক্ষমতার জন্য সামাজিক সংগঠন বা রাষ্ট্রীয় খাতকে ব্যবহার করার প্রবণতা দেখা যায়, তখন CDC-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর মূল লক্ষ্য থাকে প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ করা। একজন গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজসেবক—এই দুই পরিচয়ের মেলবন্ধনে তিনি রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সম্পদকে জনগণের কল্যাণে সরাসরি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন। ৪. মুক্তির পথ কোথায়? ব্যক্তিস্বার্থের রাজনীতি থেকে মুক্তি এক দিনে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন এবং তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী নাগরিক সমাজ গড়ে তোলা। যখন সমাজে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে গণমানুষের অধিকার, শিক্ষা এবং পরিবেশের মতো মৌলিক বিষয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করা হবে, ঠিক তখনই দেশ এই দুষ্টচক্র থেকে মুক্তি পাবে। সাংবাদিক ও সমাজ সংগঠকদের মূল কাজই হলো মানুষকে সচেতন করা এবং ক্ষমতার অপব্যবহার রুখে দিয়ে একটি সমতাভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা।
Leave a Reply