
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি: চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার কাশিপুর মাঠপাড়া গ্রামের মৃত কামাল হোসেনের স্ত্রী আনোরা বেগমের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী জেলার এক প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী প্রবাসী মাসুদ হোসেন বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারী মাসুদ হোসেন জানান, প্রায় চার বছর আগে জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। সেখানে অবস্থানকালে প্রায় এক বছর আগে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জীবননগর উপজেলার কাশিপুর মাঠপাড়া গ্রামের রহিমা আক্তার রিতার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয় এবং রিতা সৌদি আরবে তার সঙ্গে বসবাস শুরু করেন। মাসুদের দাবি, চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরে তিনি স্ত্রীকে খুঁজে পাননি। একই সঙ্গে বাসায় রাখা প্রায় চার লাখ টাকাও নিখোঁজ ছিল। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে চলে গেছেন। তিনি জানান, এ ঘটনার পর দেশে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। পাশাপাশি শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন। তার ভাষ্য, বর্তমানে তার স্ত্রী এলাকায় অবস্থান করলেও পরিবারের সদস্যরা তার অবস্থান গোপন রেখেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় তার পরিবারের সদস্য আছেরা বেগম, সাত্তার মণ্ডল ও শিরিন খাতুনের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, তারা জীবননগরের কাশিপুর মাঠপাড়া এলাকায় গিয়ে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করেন এবং হত্যার হুমকি দেন। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন মাসুদ হোসেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তাদের মধ্যে মো. কামাল শেখ প্রায় তিন বছর আগেই মারা গেছেন। অপর সাক্ষী ইসমাইল দীর্ঘদিন বিদেশে ছিলেন এবং মাত্র দেড় মাস আগে দেশে ফিরেছেন। তৃতীয় সাক্ষী আদম আলীও মামলার ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানেন না বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারী জানান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বললে তারা ঘটনার বিষয়ে কোনো প্রত্যক্ষ জ্ঞান না থাকার কথা জানান এবং তাদের অজান্তেই সাক্ষী করা হয়েছে বলে দাবি করেন। পরে বিষয়টি জানানো হলে সাক্ষীর তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। প্রবাসী মাসুদ হোসেন বলেন, স্ত্রীর চলে যাওয়া এবং জমানো অর্থ হারানোর ঘটনায় তিনি মানসিক ও আর্থিকভাবে চরম বিপর্যস্ত। এর মধ্যেই তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় তারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি বিজ্ঞ আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
Leave a Reply