
মোঃ শাহাব উদ্দিন আহমেদ কমলগঞ্জ(মৌলভীবাজার)প্রতিনিধি
মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার বুক চিরে প্রবাহিত ধলাই নদী। এই নদীর বালুকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের শাসনামলে চলছে ‘অন্য রকম শাসনব্যবস্থা’। রাজনৈতিক লেবাসের অন্তরালে কতিপয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ,যুবলীগ ছাত্র লীগ ও আওয়ামী লীগ ঘরনার কয়েকজন সংবাদকর্মীকে নিয়ে গড়ে ওঠে ছিল বালু সিন্ডিকেট। আর এই বালু সিন্ডিকেটের প্রকাশ্য নিয়ন্ত্রক ছিলেন “আবুল কালাম”ওরপে বুংঙ্গাড়ী কালাম। মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বাঁশ পাচার,গাছ পাচার,বালুমহাল দখল করে একচেটিয়া নানা ধরনের ব্যবসা করেন। এছাড়া আবুল কালাম উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে যুব লীগের কমিটি গঠন করে দেয়া নামে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতার আর্শীবাদে ফলে উপজেলার সবখানেই ছিল তার প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য নিয়ন্ত্রণ। ফলে যার বাবা কমলগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্সের ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী ছিলেন। বাবার আয় দিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে মানুষের দ্বারস্থ হওয়া লাগতো। সেই কালাম এর পরিবার আওয়ামী লীগ সরকার সরকার গঠন করা পর কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। অনুসন্ধানকালে ওইসব তথ্য জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায়, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর হয়ে যান যুব লীগের বড় নেতা। যুব লীগের নেতা হওয়ার পর থেকে বনে যান একছত্র ক্ষমতার অধিকারী। ফলে উপজেলার সবকটি বালু মহালের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করেছেন কালাম।
স্থানীয় প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে বালু সরবরাহের কাজও একচেটিয়া ভাবে করছেন কালাম সিন্ডিকেট। ঠিকাদারিসহ বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ করেন তিনি। এই কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য রয়েছে তার নিজস্ব লোকজনের সিন্ডিকেট।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কমলগঞ্জের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে কালাম। এখানে কালামের নির্দেশনায় ‘আইন’ হিসেবে কার্যকর হয়। গ্রামে ঝগড়া বিবাদের পাশাপাশি এমন কিছু ফৌজদারি বা দেওয়ানি অপরাধেরও বিচার-সালিশ পরিচালিত হতো কলামের কথামতো। তার কথার বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা নেই স্থানীয় কারোই। স্থানীয় প্রশাসনের লোকজনও তার কথায় উঠাবসা করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এদিকে,অভিযোগ রয়েছে কমলগঞ্জ এলাকার রাস্তাঘাটের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করেন। নিজেও ঠিকাদারি ব্যবসা করেন। অভিযোগ রয়েছে,স্থানীয় বেশ কিছু চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর সাথে রয়েছে তার সখ্যতা। এইসব কাজে স্থানীয় কিছু যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত নেতাদেরকে ও পার্টনার করেছিলেন। আর এইসব কর্মকান্ড পরিচালনা করতেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার শেল্টারে থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে স্থানীয়রা জানান ।
স্থানীয়রা আরও জানান,সাত-আট বছর আগেও অতি সাধারণ জীবনযাপন করতেন কালাম। যুব লীগের পদে দায়িত্ব পাওয়ার পর পরই আঙুল ফুলে অনেকটা কলাগাছ হওয়ার মতো অবস্থা হয়।
এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে কালাম মিয়ার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে উনাকে খুঁজে পাওয়া যায় নাই কালাম মিয়ার মুঠোফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।
Leave a Reply