
ত্রিশালে নারী সাংবাদিককে আটকে রেখে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও বেধড়ক মারধরের অভিযোগ
ত্রিশাল সংবাদদাতা, ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক নারী সাংবাদিককে আটকে রেখে তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ছিনতাই ও বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোছাঃ মমতা বেগম ত্রিশাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ভুক্তভোগী মমতা বেগম ‘দৈনিক নওরোজ’ পত্রিকার ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত আছেন। ঘটনার সূত্রপাত: থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে অভিযুক্ত লুৎফা ওরফে নিশু সরকার (৩৫) ও খাইরুল ইসলাম রফিক (৪৫) সহ অজ্ঞাত আরও ৪/৫ জন ব্যক্তি বিভিন্ন ফেসবুক মাধ্যম থেকে মমতা বেগমের নামে ভিত্তিহীন, মানহানিকর ও আপত্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগী তাদের সাথে যোগাযোগ করলে, তারা মীমাংসার কথা বলে তাকে ত্রিশালে আসার অনুরোধ করে। মারধর ও চাঁদাদাবি: সরল বিশ্বাসে গত ১০ আগস্ট, ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে ত্রিশালের দরিরামপুর এলাকার ‘আল-মক্কা হোটেল’-এর সামনে উপস্থিত হন ওই নারী সাংবাদিক। তখন অভিযুক্ত লুৎফা ওরফে নিশু সরকার সুকৌশলে তাকে হোটেলের ভেতরে নিয়ে যায়। মীমাংসার নামে একপর্যায়ে তারা ভুক্তভোগীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। মমতা বেগম এই অন্যায় দাবির বিষয়টি তার মোবাইল ফোনে রেকর্ড করার চেষ্টা করলে, অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তার হাত থেকে মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয়। এরপর তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে এবং তার মাথা, বুক ও পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। উদ্ধার ও হুমকি: মারধরের খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিক ও লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করেন। এসময় অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে, দাবি করা টাকা না দিলে তাকে খুন-জখম করা হবে এবং তার সংসার ভেঙে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় মমতা বেগম ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। চিকিৎসা শেষে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করে তিনি ত্রিশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর এই অভিযোগ দায়ের করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
Leave a Reply