
: — যাদব চন্দ্র রায় একটি দুর্যোগ বা সংকট সবার জন্য একরকম হয় না। যখন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারি বা সামাজিক সংকট আসে, তখন সমাজ সবচেয়ে বেশি আঘাত করে দুর্বল অংশের ওপর। আমাদের সমাজে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং জেন্ডার সংবেদনশীল জনগোষ্ঠী (যেমন- নারী, শিশু ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ) এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন। তাদের এই ঝুঁকি হ্রাস করা কোনো দয়া বা করুণা নয়, এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্ব। দুর্যোগের সময় একজন সাধারণ মানুষের চেয়ে একজন প্রতিবন্ধী মানুষের সহায়তার প্রয়োজন হয় অনেক বেশি। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, আমাদের আশ্রয়কেন্দ্র বা উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের বিশেষ চাহিদার কথা মাথায় রেখে তৈরি হয় না। একইভাবে, দুর্যোগের পরে নারীরা নানা ধরনের সামাজিক ও শারীরিক নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ভোগেন। তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরা অনেক সময় ত্রাণ বা পুনর্বাসন প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়ে যান। এই বৈষম্য ও অবহেলা তাদের সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে। এই জনগোষ্ঠীর ঝুঁকি হ্রাসে আমাদের সুনির্দিষ্ট কিছু দায়িত্ব রয়েছে। প্রথমত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রতিটি স্তরে—পরিকল্পনা থেকে শুরু করে উদ্ধার ও ত্রাণ বিতরণ—তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে প্রতিবন্ধী-বান্ধব করতে হবে, যেখানে হুইলচেয়ার চলাচলের র্যাম্প এবং আলাদা ও নিরাপদ টয়লেটের ব্যবস্থা থাকবে। দ্বিতীয়ত, ত্রাণ বিতরণে জেন্ডার সংবেদনশীলতা বজায় রাখতে হবে, যাতে নারী ও শিশুরা নিরাপদে তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী পেতে পারেন। সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করা। প্রতিবন্ধী বা জেন্ডার সংবেদনশীল মানুষরা সমাজের বোঝা নন, তারা আমাদেরই অংশ। তাদের অধিকার ও সুরক্ষার বিষয়টি আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত সবাইকে এই বিষয়ে সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে। একটি বৈষম্যহীন ও নিরাপদ সমাজ গঠন করতে হলে কাউকেই পেছনে ফেলে রাখা যাবে না। আমরা যদি আজ প্রতিবন্ধী ও জেন্ডার সংবেদনশীল মানুষের পাশে না দাঁড়াই, তবে একটি টেকসই ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলা কখনোই সম্ভব হবে না। আসুন, আমরা নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হই এবং সবার জন্য একটি সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করি।
Leave a Reply