
ঝিনাইদহ সংবাদদাতা: ঝিনাইদহের মহেশপুরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে বসতবাড়িতে হামলা, দুই নারীকে মারধর, শ্লীলতাহানি, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মহেশপুর থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন আব্দুল হামিদ (৮৯) নামে এক বৃদ্ধ। এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটের দিকে উপজেলার ১২ নম্বর আজমপুর ইউনিয়নের মালাধরপুর গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় আব্দুল হামিদের বসতবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লোহার রড, বাঁশের লাঠিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে প্রবেশ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, বাড়িতে প্রবেশের পর অভিযুক্তরা আব্দুল হামিদের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৭০) ও পুত্রবধূ রুপালীকে (২৫) অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। এর প্রতিবাদ করলে কয়েকজন অভিযুক্ত রোকেয়া বেগমের চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে জখম করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। রোকেয়া বেগমকে রক্ষা করতে পুত্রবধূ রুপালী এগিয়ে এলে তাকেও চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া ও মারধর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় এক অভিযুক্ত রুপালীর পরনের কাপড় টান দিয়ে ছিঁড়ে ফেলে শ্লীলতাহানি করেন বলেও অভিযোগ করেছেন বাদী। এজাহারে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বসতঘর, আসবাবপত্র ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে প্রায় ৩ লাখ টাকার ক্ষতি করেন। পরে ঘরে থাকা নগদ ১৫ হাজার টাকা এবং আনুমানিক ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের দেড় ভরি ওজনের দুটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যায় বলে দাবি করেছেন আব্দুল হামিদ। আহতদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত রোকেয়া বেগমকে ভ্যানযোগে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাদী আব্দুল হামিদ জানান, চিকিৎসাজনিত ব্যস্ততা ও স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শের কারণে থানায় এজাহার দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। এ বিষয়ে মহেশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “এ ঘটনায় একটি এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Leave a Reply