
। সোহল চৌধুরী, স্ট্যাফ রিপোর্টারঃ ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলায় ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে বিপুল চন্দ্র ঘোষ (৩৫) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। আজ শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকালে উপজেলার বড়বামনদাহ ও রাঙ্গীয়ারপুতা মাঠ এলাকার মাঝামাঝি স্থানে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে পারিবারিক কলহ ও মানসিক ক্ষোভের জেরে তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন। নিহত বিপুল চন্দ্র ঘোষ যশোর জেলার কোতোয়ালি থানার ধরবা গ্রামের দুলাল চন্দ্র ঘোষের ছেলে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিপুল চন্দ্র ঘোষ ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার খেদাপাড়া এলাকায় তার শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। সেখানে অবস্থানকালে কোনো একটি বিষয় নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সাথে তার প্রচণ্ড বাকবিতণ্ডা ও পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পর থেকে তিনি চরম মানসিক অশান্তি ও ক্ষোভে ভুগছিলেন। আজ শুক্রবার দুপুরের পর তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। বিকালে কোটচাঁদপুরের বড়বামনদাহ থেকে রাঙ্গীয়ারপুতা মাঠ এলাকার স্থানীয় কৃষকেরা রেললাইনের পাশে একটি ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, খুলনা বা চিলাহাটিগামী কোনো একটি চলন্ত ট্রেনের নিচে মাথা দিয়ে বিপুল আত্মহত্যা করেন। ট্রেন চলে যাওয়ার পর স্থানীয়রা লাইনে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের খবর দেয়। প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। স্থানীয় আগ বাসিন্দা বলেন, “আমরা বিকালের দিকে মাঠের রেললাইনের ধারে লাশটি পড়ে থাকতে দেখি। ট্রেনের নিচে মাথা দেওয়ায় শরীর থেকে মাথা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। পরে জানা গেল, পাশের উপজেলার শ্বশুরবাড়িতে ঝামেলার কারণে ছেলেটি ক্ষোভে এখানে এসে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে।” রেললাইনে যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে রেলওয়ে (জিআরপি) থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট যশোর রেলওয়ে থানা পুলিশ খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, পুলিশ লাশ উদ্ধারের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে। এই ঘটনার পর থেকে বিপুল চন্দ্র ঘোষের নিজ গ্রাম যশোর এবং শ্বশুরবাড়ি কালীগঞ্জসহ পারিবারিক বিবাদ কীভাবে একটি তরতাজা প্রাণ কেড়ে নিল, তা নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যশোর রেলওয়ে পুলিশ জানায়, লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দায়ের করা হলে বা তদন্তে অন্য কোনো প্ররোচনা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপাতত একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলার প্রস্তুতি চলছে।
Leave a Reply