
। রিজওয়ান, নওগাঁ। পরকীয়া প্রেমের শেষ পরিনতি নির্মমভাবে মৃত্যু কে বরন করে নেয়া, এটিই হয়তো বাস্তবতা। নওগাঁ জেলার সীমান্ত ঘেঁসা উপজেলা ধামুইরহাটের আগ্রাদ্বীগুন এলাকার আম্র কাননে মেরিনাকে তার প্রেমের ঠিক এই সম্প্রতি বলিদান দিতে হয়েছে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পেট্রোলে পুড়িয়ে লাশ বীভৎস রূপে গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা বীভৎস করেন নাই। তাই তার পরিবার পরিজন শনাক্ত করতে পেরেছিল যে,এটিই তাদের মেরিনা। মেরিনা অত্র উপজেলার মড়লই গ্রামের সাবেক ইউনিয়ন মেম্বার বাবুল হোসেনের সঙ্গে পরকীয়ায় মগ্ন ছিল। ৪০ উর্ধ্ব মেরিনা এক পর্যায়ে মেম্বার বাবুল হোসেন কে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। এই বিয়ের চাপই কাল হয়ে দেখা দিলো। ধামইরহাটে সাবেক ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে নারী হত্যার অভিযোগ জোরালো হ’য়ে দেখা দিলো। অবশেষে ১২ ঘণ্টায় ২ জন কে গ্রেফতার করে পুলিশ কর্তৃপক্ষ সাফল্য দেখিয়ে দিলো। নওগাঁর ধামইরহাটে মেরিনা বেগম (৪৫) হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য প্রকটরূপে প্রকাশ্যে এলো। প্রেমের সম্পর্ক, বিয়ের চাপ এবং শেষ পর্যন্ত হত্যার অভিযোগ-সব মিলিয়ে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। পুলিশের দাবি, মেরিনার সঙ্গে উপজেলার মড়লই গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার বাবুল হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে মেরিনা তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। বিয়ে না করলে বাড়িতে চলে যাওয়া কিংবা আত্মহত্যার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট হয়েছে। প্রকাশ থাকে যে, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৬ আগস্ট বিয়ের কথা বলে সহযোগীদের মাধ্যমে মেরিনাকে ঘুগসী বিলের পূর্ব পাড়ের সাহাপুর থেকে আগ্রাদ্বিগুন বাজারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে তাকে একটি নির্জন আমবাগানে নিয়ে যান ঐ প্রেমিক বাবুল। আরও জানা যায় যে, আগে থেকে কেনা তিন লিটার পেট্রোলও সঙ্গে নেওয়া হয়েছিল। এরপর নির্জন আমবাগানে তারেক রহমানের কোমরের বেল্ট দিয়ে মেরিনার গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। হত্যার পরেও থামেনি ঐ পশুদের নৃশংসতা। পরিচয় গোপন ও হত্যার আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে মেরিনার মুখমন্ডল সহ বডির ওপরের অংশে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে পুলিশের অভিযোগ। পরে তার সঙ্গে থাকা টাকা পয়সা ঐ ঘাতকরা নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। এরপর খবর পাওয়া মাত্র পরিবার পরিজনরা ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেন, পোড়া লাশ দেখে তৎক্ষনাৎ শনাক্ত করলেন নিহতের ছেলে। প্রকাশ থাকে যে, গত ১৮ আগস্ট সন্ধ্যায় একটি আমবাগানে আগুনে পোড়া লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। ঠিক একই সময়ে মায়ের নিখোঁজের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে আসা তারই ছেলে কাউসার আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি তার মা মেরিনা বেগমের বলে চিহ্নিত করেন। এরপরই হত্যার রহস্য উদঘাটনে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে নওগাঁ জেলা পুলিশ। সিআইডি ও পিবিআইয়ের যৌথ সহযোগিতা এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও তথ্য, উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযানে নামে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ ও ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টুর নেতৃত্বে মুষলধারে বৃষ্টির মাঝেও রাতভর সফল অভিযান চালিয়ে সাবেক ইউপি মেম্বার বাবুল হোসেন ও তার সহযোগী তারেক রহমানকে মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মহোদয় বলেন যে কোন ধরনের অপরাধ মূলক কর্মকান্ড রোধকল্পে জেলা পুলিশ বদ্ধ পরিকর।
Leave a Reply