
। রিজওয়ান, নওগাঁ। সম্প্রতি নওগাঁ জেলার রাস্তাগুলো আধুনিকীকরনে ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন সাধিত হয়।যানবাহনের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি ও পেয়েছে। সর্বচাইতে বৃদ্ধি পেয়েছে চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালনা।ব্যাটারিচালিত চার্জার ভ্যান,রিক্সা,সেমি লরিসদৃশ্য তিন চাকার গাড়ি, ইজি পাওয়ার,হোন্ডা,মোটরসাইকেল, ভটভটি,কাঁকড়া,ট্রাক ও ১০ চাকার ড্রাম্পায়ার্ড ট্রাক প্রভৃতি। এদের চালকরা কেউ ই ভালো রাস্তা হওয়ার দরুন ব্রেকে পা আর রাখতে চান না বা বিরক্তবোধ করেন। যত দ্রুত যাওয়া যায় ততই মঙ্গল। কিন্তু কেউ ই মনে করেন না যে , “সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশী ” দামী। এটি মনে করলে বেপরোয়া গতিতে আর গাড়ি চালাতো না। আর বর্তমানে আমাদের কৃষি প্রধান দেশে ই রি ধান কর্তন ও মাড়াইকরনের এবং ধানের গাছ বা খড়গুলো শুকানো ঘরে উঠানর জন্য যারপরনাই ব্যস্ততা পরিলক্ষিত হচ্ছে, এরই ফাঁকে রাস্তায় ধান কেটে এনে জড়ো করে মড়াই করনের পরে সেই খড়গুলো রাস্তার পাশে গাঁদা করে রাখার ফলে যানবাহনের চলাচলের অত্যন্ত বিঘ্ন সৃষ্টি করে মারাত্মক প্রানঘাতি দূর্ঘটনা ঘটায় বা ঘটে। এই খড়ের গাদার কারনেই গত ২৫/০৫/২৬. সমবার গভীর রাতে চার্জার গাড়ি চালক আবু হাসান নওগাঁ জেলার পত্নী তলা উপজেলার আমবাটি বাজারের এক কিলোমিটার দক্ষিণে এবং গাহন মোড়ের এক কিলোমিটার উত্তরে গাদা করে রাখা খড়ের পালার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে আটকে যায়,ঠিক তৎক্ষনাৎ বিপরিতগামী দ্রুত ড্রাম্পায়ার্ড ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে চার্জার চালক আবু হাসান ও একজন যাত্রীর ঘটনাস্থলেই মর্মান্তিক ও নির্মমভাবে মৃত্যু হয়। জানা যায়, আনুমানিক ঐদিন রাত ২:৩০ মিনিটের সময় নজিপুর বাসস্ট্যান্ডের মাইক্রো ড্রাইভার তরিকুল তার চার্জারযোগে বাসায় ফেরার পথে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনার শিকার হন। আরও জানা যায় যে, নিহত আবু হাসান পাটিচরা ইউনিয়নে বাগুড়িয়ার বাসিন্দা। তবে দীর্ঘদিন থেকে তিনি মহাদেব পুর উপজেলার সুজাইলে বসবাস করছিলেন, ব্যবসার সুবাদে নজিপুরের পালসায় ভাড়া থাকতেন। রাতের অন্ধকারে ঠিক কোন গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা না গেলেও ড্রামঃ ট্রাক বলেই অনুমান করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ব্যাটারি চালিত গাড়িটি ভেঙে মুচড়ে দুমড়ে-যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কের দুই পাশে খড়ের গাদা ও প্রতিবন্ধক রেখে চলাচলের পথ ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলা হয়েছে। এমন অব্যবস্থাপনা ও অসচেতনতার দায়ভার কে নেবে এ প্রশ্ন এখন সবার মনে। অনেকেই মনে করছেন, সড়কের পাশে এভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে খড়ের গাদা বা প্রতিবন্ধক রেখে জনসাধারণের জীবন বিপন্ন করা অত্যন্ত দায়িত্ব জ্ঞানহীন কাজ। আর এই খড়ের পালা দিয়ে রাখা এ ধরনের অসচেতন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা অতিব জরুরি বলে পথচারী ও এলাকাবাসী মনে করছেন । এই ভয়ানক ও মর্মান্তিক ঘটনায় পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Leave a Reply