
নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারের গুরুত্ব: যাদব চন্দ্র রায়…………………………………………………………………….. সেপ্টেম্বর মাসে দেশে অন্তত ২৩৬ জন নারী ও শিশুর সহিংসতার শিকার হওয়ার তথ্যটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এর মধ্যে ৭৯ জন ধর্ষণের শিকার এবং তাদের মধ্যে ৪৭ জনই শিশু ও কিশোরী—এই পরিসংখ্যান আমাদের সমাজের এক অন্ধকার ও নিষ্ঠুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে। এটি শুধু কোনো সংখ্যার হিসাব নয়, বরং প্রতিটি ঘটনার পেছনে জড়িয়ে আছে একটি করে পরিবারের কান্না, নষ্ট হওয়া ভবিষ্যৎ এবং একটি করে মানব জীবনের চরম ট্র্যাজেডি। একটি সভ্য সমাজের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো তার নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সামাজিক ব্যাধি দূর করতে এবং একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি: আইনের কঠোর ও দ্রুত প্রয়োগ: নারী ও শিশু নির্যাতনের যেকোনো ঘটনায় অপরাধীদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে যেন কোনো অপরাধী পার পেয়ে না যায়, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা: পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করতে হবে। সহিংসতার খবর পাওয়ামাত্রই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং ভুক্তভোগী পরিবারের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত। আইনি সহায়তার সহজলভ্যতা: প্রান্তিক ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভুক্তভোগীরা যাতে সহজে আইনি ও চিকিৎসাসেবা পান, সেজন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (OCC) এবং হেল্পলাইন (যেমন: ১০৯) সেবা আরও শক্তিশালী করা দরকার। সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধ: পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে নৈতিক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে পাড়া-মহল্লায় প্রতিরোধ কমিটি গড়ে তোলা যেতে পারে। মনস্তাত্ত্বিক ও পুনর্বাসন সহায়তা: সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুদের ট্রমা থেকে বের করে আনতে পর্যাপ্ত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা (কাউন্সেলিং) এবং সমাজে তাদের সসম্মানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণ কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের প্রত্যেকের মৌলিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। সমাজ থেকে এই সহিংসতা দূর করতে রাষ্ট্র, প্রশাসন, সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষ—সকলকে একযোগে এগিয়ে আসতে হবে। এখনই কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
Leave a Reply