
বিশেষ প্রতিবেদক | ময়মনসিংহে বিগত সরকারের শাসনামল থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার, আসামিদের ধরপাকড় না করা এবং ভুক্তভোগীদের ওপর মানসিক চাপের এক চাঞ্চল্যকর চিত্র সামনে এসেছে। সম্প্রতি কোতোয়ালি থানাধীন এলাকার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী মনির চৌধুরী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (আইজিপি) বরাবর একাধিক অপরাধ ও বিতর্কিত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এর জের ধরেই অভিযোগপত্রে উল্লিখিত অভিযুক্ত ব্যক্তি ও প্রভাবশালী মহল ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে এবং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। অভিযোগের নেপথ্যে কী রয়েছে? ভুক্তভোগী মনির চৌধুরীর দাখিলকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাঁর দায়ের করা একটি মামলার (মামলা নং- ২৬/২০২৫, কোতোয়ালি থানা) ১ থেকে ৬ নম্বর অভিযুক্ত আসামি যথাক্রমে মোঃ কামাল মিয়া, মোঃ কবির মিয়া, মোঃ রেজাউল করিম, মোঃ জয়নাল আবেদীন, খায়রুল আলম রফিক এবং বাবু সবিনয় গুহ। অভিযোগকারীর দাবি, গত ৫ মাস ধরে অভিযুক্তরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোতোয়ালি থানা পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার না করে বা চার্জশিট না দিয়ে তাদের মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ করে দিচ্ছে। উপরন্তু, সাবেক স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ও কোতোয়ালি থানার সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রভাবে আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরারব একাধিকবার ধর্না দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ। আইজিপি দপ্তরে তথ্য অধিকার আইনে আবেদনের পর উত্তেজনা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং ময়মনসিংহ রেঞ্জ ও এসপি অফিসে একাধিক ডাক মারফত (রেজিস্ট্রি রশিদ নং- DL-877829665-BD, DL-877829609-BD ইত্যাদি) স্মারকলিপি প্রেরণের পর, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর অধীনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) দপ্তরে ‘ফরম ক’ এর মাধ্যমে অভিযোগের অগ্রগতির তথ্য চেয়ে আবেদন করেন দৈনিক প্রলয়-এর নির্বাহী সম্পাদক মোঃ শহীদুল ইসলাম। অভিযোগটি পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নজরদারিতে আসার সাথে সাথেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র ও সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তরা। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, অভিযোগ প্রত্যাহার ও অনুসন্ধানী তথ্য প্রকাশ বন্ধ করতে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীর ওপর নানা ধরনের পরোক্ষ মানসিক ও বাহ্যিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার অভিযোগ মনোযোগ আকর্ষণকারী এই অভিযোগে বিগত ১৫ বছরে ময়মনসিংহে কর্মরত একাধিক শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, বিগত বছরগুলোতে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ও জেলায় দায়িত্বে থাকা ডিআইজি ও পুলিশ সুপারদের আমলে কোতোয়ালি থানায় ক্রসব্যাটল, নির্যাতন ও চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে কোতোয়ালি থানার সাবেক ও বর্তমান পদস্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আসামিদের গ্রেপ্তার না করে উল্টো ভুক্তভোগী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী। বর্তমান পরিস্থিতি অভিযোগপত্র আইজিপি কার্যালয়ে পৌঁছানো এবং তথ্য অধিকার আইনে আবেদনের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকে ময়মনসিংহ জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী নিরাপত্তার হীনতায় ভুগছেন এবং দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার ও জড়িত কর্মকর্তাদের শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে চেষ্টা করা হলে তারা বিষয়টি এড়িয়ে যান। অন্যদিকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে দাবি করা হলেও এতদিনেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি বা গ্রেপ্তারের তথ্য মেলেনি।
Leave a Reply