
রুহুলআমিন রিয়াদ
বাংলার ঋতু গুলোর মধ্যে চতুর্থতম ঋতু হইলো হেমন্তকাল।এই
ঋতুর পরেই শীতের আগমন।শীতের পহেলা থেকেই কম বেশি ঠান্ডা লাগে। বাংলার রাস্তা-ঘাট, হাটে-বাজারে, নদ-নদী,
খাল- বিল,চারদিকে শিশির জমে থাকে নিত্যদিন। ভোরবেলায় শিশির জমে থাকা লজ্জাবতী নিজেকে লুকিয়ে রাখে।”কিন্তু অল্প আলোর ঝিলিক পাইলে নিজেকে দেখার চেষ্টা করিতাছে।
শত পুকুর-ডোবা,ধানক্ষেত,সরুপথ,ইত্যাদি কারণে গ্রামগঞ্জে
একটু বেশি ঠান্ডা লেগে থাকে। রোজ রোজ প্রকৃতি প্রেমলীলা,
কোকিলের মধুর সুরে গান পল্লিমানুষের মন প্রতিদিন নানা রকম ভাবে জয় করিতাছে।
মহর্ষি নিবারণ চন্দ্র সাহা ইতিমধ্যে পরলোকগমন করেছেন। তাঁর রেখে যাওয়া আদরের পুএ তুলশী চন্দ্র সাহা পিতার পরলোকগমন করাই,বাল্যকাল থেকে ভরপুরে বড় হয়েছেন।
পবিত্র শাদিটাও পিতা না থাকাই খেটে-খাওয়া কন্যাকে করতে
হয়েছে।
এখন,তিনি এক কন্যা দোলা,দুই পুএ কুষাণ,তুষার, সন্তানের পিতা। বিশেষতঃপুএ গুলো জন্মগ্রহনের আগে কিংবা পরে সবাই তাকে পটু চোখে দেখিতেন,,, হঠাৎ কন্যা সন্তানটি জন্মের
পর থেকে সবাই তাহাঁকে একটু হলোও ভালো চোখে দেখেন,,,
কেননা, আগের কুকাজ গুলি বহিষ্কার করেছেন।
কিন্তু, মাতা কন্যা বিবাহ কথা ভেবে ভেবেই তাকে উৎসর্গ করেন
“মুখপোড়ী আমায় খেতে এলি”
পিতা কন্যাকে একটু বেশি ভালোবাসতেন। তবুও কি অল্প রোজগারে খারাবটুকু প্রকাশ পাইতাছে।
তুলশী চন্দ্র সাহা গৃহস্থল হলো গ্রামের এককোনায়, বাড়ির ধারে
ডোবা,ধানক্ষেত,আমগাছ,কাঁঠালগাছ,নিমগাছের পাতা ও ফুল
গুলো চারদিকে ছরিয়ে ছিটিয়ে আছে। একটি মাএ টিনের ঘর,
তাঁর সাথে লাগানো ইংরেজী চালের ছোট একটা ঘর,সেখানে
রান্না-বান্না,খাওয়া-দাওয়া, রাতের আরামটুকু, ছোট একটা বকন বাছুর ইত্যাদি দৃষ্টি আকর্ষণ করিতাছে।
স্বামী-স্ত্রী পরামর্শ করিয়া পুএ সন্তানদের ভালো ঘরেতে রাখিয়া
দেয়। কন্যাকে নিজেদের সাথে নেয়, মনে হচ্ছে,
“ঝিনুকের মাঝে লুকানো মুক্তা”
পুএ ঘরেতে তেমন কিছু নাই,শুধু আছে সোকেচ,ডেসিনটেবিল,
চকি, সবই বিয়েতে পাওয়া দান,এখনো যে টিকিয়ে আছে
ঈশ্বর্র তোমার মেহেরবান।
শীতের আসিতাছে বায়ু, নিন্মবিত্ত লোক গুণে তাঁদের আয়ু, ঘোর ঘোর আন্ধার নিঃশ্বাস ফেলি তাও সাড়া নাই কার কেবল শীতকে ঘেরিয়া ঘেরিয়া একটু করে পর,,, তবু আপন করিয়া
নিজেই নেয় শীত বাংলার মানুষদের। মাঘ মাসের ঠান্ডা ইতিমধ্যে পরিয়া গেছে। রাশি রাশি ভারা ভারা ঠান্ডা রোজ রোজ নিশিথে শরীলের কাঁপনি হইতাছে।
নিজে যদি কমবোল টানিয়া নেয়,তাহলে ছোট দাদা বাহির হইয়া
থাকতে হয়। ” অভাবে হয় স্বভাব নষ্ট ”
ঘুম নাই ঘুম নাই জেগে থাকে একা, কেউ যাইনা তাঁদের সাথে
করিতে দেখা। নিজেকে দোশারফ করিয়া কর্ণ সজাগ রেখে, চোখ বন্ধ করে প্রহর গুণে কখন যে সকাল হবে। দুই পুএ শীতে
শরীল ঠান্ডা হয়ে গিয়াছে। ঐ ঘর একটু শব্দ শোনা যায়,
দোলা কহিল, মা ঠান্ডা লাগিছে ? ,এই নিশিথে কত না দুঃখ, কষ্ট, বেদনা রাশি রাশি।
ভোরবেলায় কুষাণ ঘুম থেকে উঠে হাত-মুখ ধুয়া শেষ।
কুষাণ কহিল,মা এবার শীতের কাপড় কিনে দিবেন না,,,!, রাতের বেলায় খুব ঠান্ডা লাগে। খেতাটাও ফির ছেড়া,,?,
মাতা কহিল, মানুষের সাথে ওত সাধ কেন ! ওইযে দেখছো
নিলয়ের নতুন পোশাক তাই বললি, আমি কিছুই বুঝিনা,
কুষাণ কহিল, আচ্ছা. লাগবেনা।
মাতা কহিল,এই সুয়ারের বাচ্চার এত রাগ কেন বলে- তাঁর গাঁয়ে হাত তুললো।
গরিব সন্তানের নেই যে কোনো প্রতাশা এটাই তাঁর প্রমাণ।
তুলশী এক গাঁ হেঁটে আসিয়া রোয়াক দাড়ালো,তাঁর উপস্থিতি
গৃহবধূ নজর এড়াইনি,
মাতা কহিল, তোমার না হয় কাপড় লাগেনা,চুলার উপর দাঁড়িয়া
গাঁও গরম করো, এই ছলগুলাকে ঠান্ডা লাগে না, মোক না হয় না দিলু ,, এই ছলগুলাকে মুইতো হাতে করে আনে নিকা বসুনি,
এরা তো তোর জরমা,
পল্লীজননী বলিতে বলিতে কেঁদে ভাসাইছে বুক,
দোলাকে জরিয়ে পায় যদি একটু সুখ। ভগবান শুধু মন পরীক্ষা
করতে চায়,
টান টান রোদ। বেলা এগারোটা কি বারোটা বাজে। মাতা প্রচুর
পোশাক পরিধান করা কোথা থেকে এনে রোয়াকে দাড়াইলো।
শীতের পোশাক দেখে দোলা,তুষার আনন্দ সীমা নাই। চোখের
পলকে পোশাক পরিধান করা শেষ।
দোলা কহিল, আর কোথায় কি আছে মাগো দেও না গো দেখাইয়া ? ছোট দাদা,দিদি আনন্দটুকু কুষাণের কর্ণ পৌঁছালো।
অল্পতে ঘর থেকে বাহির হয়ে এলো।
” বড় পুএ কাছে মাতা হইলো দুষি”
মাতা কহিল, দেখতো এই কাপড়টা তোর হয় নাকি ?
কুষাণ কহিল, পরবোনা আমি পরবোনা অন্যের দেওয়া জিনিস,
তোমার টাকা নাই ! না কিনিস, এই রকম থাকমো, না লাগে ঠান্ডা,
মাতা কহিল বরকে ডেকে, তুমি তোমার ছলের মন ভরাও। আমি তোমার ছলের সাথে পামমা।
Leave a Reply