1. admin@agamirdorpon.com : admin :
  2. agamirdarpon@gmail.com : News admin :
  3. razzakmaheshpur@gmail.com : razzakmaheshpur :
মিথ্যা অভিযোগে আদালতের কর্মচারীকে হয়রানি, ‘উড়ো চিঠির’ নেপথ্যে কারা?
June 17, 2026, 3:01 am
Title :
চৌগাছায় বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও বৃক্ষ রোপণ পোরশায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৫০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক মিথ্যা অভিযোগে আদালতের কর্মচারীকে হয়রানি, ‘উড়ো চিঠির’ নেপথ্যে কারা? সংসদ সদস্য টিপুর পক্ষ থেকে ১১৭ টি অসহায় পরিবারের মাঝে শুকনো খাবারের প্যাকেট বিতরণ মামলা করে ‘আমার বাল তুলবি তোরা’ জনসম্মুখে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, অবশেষে গ্রেফতার আসামি মতিন নওগাঁ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা নওগাঁয় সম্পত্তির লোভে বৃদ্ধ মাকে নির্যাতন: কুলাঙ্গার দুই ছেলে গ্রেফতার বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস নওগাঁর বহুল পরিচিত আমবাটি বাজার বনিক কমিটির বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৬ অনুষ্ঠিত নওগাঁয় ব্যবসায়ী হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ২

মিথ্যা অভিযোগে আদালতের কর্মচারীকে হয়রানি, ‘উড়ো চিঠির’ নেপথ্যে কারা?

  • Update Time : মঙ্গলবার, জুন ১৬, ২০২৬
  • 27 Time View

 শান্তি আক্তার :নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলা জজ আদালতের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের সেরেস্তাদার মোঃ মামুনুর রশিদ বাঁধনের বিরুদ্ধে একের পর এক বেনামি ও উড়ো অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে অভিযোগকারীদের পরিচয়, উদ্দেশ্য এবং অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করা, মানহানি এবং প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত হয়রানি সৃষ্টি করতেই একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ দাখিল করছে। সম্প্রতি মোঃ রবিউল ইসলাম, পিতা-মৃত তমিজ উদ্দিন, সাং-তিলনা, সাপাহার, নওগাঁ নাম ব্যবহার করে একটি লিখিত অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়। অভিযোগে আদালতের কর্মচারী মোঃ মামুনুর রশিদ বাঁধন ও অন্যদের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, তদবির বাণিজ্য, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন অনিয়মের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগের বিভিন্ন অংশ পর্যালোচনায় বেশ কিছু অসঙ্গতি সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগকারী নিজে কীভাবে এত বিস্তৃত তথ্য সংগ্রহ করেছেন, তার উৎস কী, অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনাগুলোর প্রত্যক্ষ সাক্ষী ছিলেন কিনা এবং দীর্ঘদিন পর হঠাৎ কেন এসব অভিযোগ উত্থাপন করা হলো এসব প্রশ্নের কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আরও জানায়, এ পর্যন্ত নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ বরাবরে একই ধরনের মোট তিনটি অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর অভিযোগের ধরন, ভাষা ও উপস্থাপনায় উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে একটিতে রফিক জোয়রদার নাম ব্যবহার করা হয়েছে এবং অপরটিতে রবিউল ইসলাম নামে অভিযোগকারী উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে আরও একটি অভিযোগে ইব্রাহীম, পিতা-আব্দুল হান্নান নামে একজনের পরিচয় ব্যবহার করা হয়। সাপাহার উপজেলার পাতাড়ী ইউনিয়নের কলমুডাঙ্গা এলাকায় সেরেস্তাদার মামুনুর রশিদ বাঁধনের বিরুদ্ধে উড়ো চিঠির মাধ্যমে অভিযোগকারী হিসেবে উল্লেখ করা ‘ইব্রাহীম, পিতা-আব্দুল হান্নান’ নামে কোনো ব্যক্তির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদ রানা, মনিরুল ইসলাম সহ একাধিক ব্যক্তি দাবি করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নাম-পরিচয়ের কোনো ব্যক্তি এলাকায় বসবাস করেন না। এতে অভিযোগগুলোর পেছনে কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এদিকে অভিযোগকারী রবিউল ইসলাম সম্পর্কেও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের মতে, প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে বেনামি বা ভুয়া পরিচয়ে অভিযোগ করে শুধুমাত্র প্রশাসনিক হয়রানির উদ্দেশ্য থাকতে পারে। অভিযোগগুলোর ভাষা, উপস্থাপন ও বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, এগুলো কি সত্যিই ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির স্বতন্ত্র অভিযোগ, নাকি কোনো একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করছে? একই ধরনের তিনটি অভিযোগের পেছনে কোনো ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা ইন্ধনদাতা রয়েছে কিনা, সেটিও এখন আলোচনায় এসেছে। আদালতের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিচার বিভাগীয় নিয়োগ একটি কেন্দ্রীয় ও বিধিবদ্ধ প্রক্রিয়া। একজন সেরেস্তাদার বা পেশকারের পক্ষে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার কোনো এখতিয়ার নেই। মেধা, লিখিত পরীক্ষা, মৌখিক পরীক্ষা এবং নির্ধারিত বিধি-বিধানের মাধ্যমেই নিয়োগ সম্পন্ন হয়ে থাকে। তাদের দাবি, অভিযোগে যেসব নিয়োগ বাণিজ্যের কথা বলা হয়েছে, সেগুলোর পক্ষে কোনো প্রামাণ্য দলিল, আর্থিক লেনদেনের তথ্য, ব্যাংক হিসাব, ভুক্তভোগীর জবানবন্দি কিংবা নির্দিষ্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযোগে যেসব ১২ জনের নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সেরেস্তাদার মামুনুর রশিদ বাঁধনের কোনো প্রশাসনিক ক্ষমতা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার ছিল না বলেও তারা দাবি করেন। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রশ্ন, যদি অভিযোগগুলো সত্য হয়ে থাকে, তাহলে এতদিন অভিযোগকারীরা নীরব ছিলেন কেন? তারা আগে কোনো আইনগত প্রতিকার চাননি কেন? অভিযোগের তথ্যের উৎস কী? অভিযোগকারী নিজে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি কিনা, নাকি তৃতীয় কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করছেন? একই ধরনের অভিযোগ বারবার বিভিন্ন নামে জমা দেওয়ার উদ্দেশ্য কী? এসব প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করাও জরুরি বলে মনে করছেন তারা। স্থানীয়দের মতে, যদি তিনটি অভিযোগই ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়, তাহলে এর পেছনে থাকা প্রকৃত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। কারণ, ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে ধারাবাহিকভাবে উড়ো ও বেনামি অভিযোগ দাখিল করা হলে তা শুধু একজন কর্মচারীকে প্রশাসনিকভাবে হয়রানির মধ্যে ফেলে না, বরং বিচার বিভাগীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও অযথা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। এদিকে অভিযুক্ত সেরেস্তাদার মোঃ মামুনুর রশিদ বাঁধনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিচার বিভাগের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমি আশা করি, অবশ্যই ন্যায়বিচার পাব। যেসব বিষয়ের সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, সেসব মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে। বিষয়টি যেহেতু মিথ্যা ও ভিত্তিহীন, অভিযোগকারীর পক্ষে আনীত অভিযোগের সত্যতা নেই। এ বিষয়ে আমি আমাদের অভিভাবক মাননীয় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মহোদয়ের নিকট অব্যাহতি প্রার্থণা করব। আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে অভিযোগ অবশ্যই তথ্য-প্রমাণনির্ভর হতে হবে। মিথ্যা, বেনামি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের মাধ্যমে কাউকে হয়রানি, মানহানি বা প্রশাসনিক চাপে ফেলার চেষ্টা করা হলে, সেটিও তদন্তসাপেক্ষ বিষয়। অভিযোগকারীদের প্রকৃত পরিচয়, তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিযোগের তথ্যের উৎস, কারা অভিযোগের খসড়া প্রস্তুত করেছে এবং কী উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে অভিযোগের সত্যতা ও নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে, উড়ো অভিযোগের মাধ্যমে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার পেছনে কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে এ ধরনের অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে, সেটিও খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©2019agamirdarpon
Design & Developed By BD IT HOST