
রিজওয়ান, নওগাঁ
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলন কপ-৩১ এ অংশ নিতে তুরস্ক যাচ্ছেন নওগাঁর পত্নীতলার তরুণ জলবায়ুকর্মী মো.মামুনুর রেজা।এই সম্মেলনে নওগাঁ থেকে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া মামুনুর রেজা বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারকদের সামনে তুলে ধরবেন দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বরেন্দ্র এলাকার তীব্র খরা, পানির সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন সংগ্রামের বাস্তব চিত্রসমুহ।
প্রকাশ থাকে যে, আগামী (৯-২০) নভেম্বর দুই সপ্তাহ ব্যাপি তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনের ৩১ তম আসর। ২রা নভেম্বর তিনি বাংলাদেশ থেকে রওয়ানা দিবেন।
এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, নীতিনির্ধারক,পরিবেশবিদ, উন্নয়নকর্মী ও তরুণ প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।সম্মেলনের মূল অধিবেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার আয়োজনে পার্শ্ববৈঠকেও বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মামুনুর রেজা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ আন্দোলন ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তিনি নওগাঁ ভিত্তিক যুব সংগঠন ‘ভয়েস’ এর প্রতিষ্ঠাতা এবং পরিবেশ বিষয়ক জাতীয় সংগঠন ‘মিশন গ্রিন বাংলাদেশ’ এর প্রচার সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে বেড়ে ওঠার সুবাদে পানির তীব্র সংকট, প্রখর তাপপ্রবাহ, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং কৃষির ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। নিজের এলাকার মানুষের এসব বাস্তব সমস্যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুস্পষ্ঠ ভাবে তুলে ধরার লক্ষ্য থেকেই কপ-৩১ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন এই তরুণ।
সম্মেলনে জলবায়ু অভিযোজন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষয়ক্ষতি ও লোকসান এবং প্রকৃতিভিত্তিক সমাধানের বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চান মামুনুর রেজা। তাঁর মতে, শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতিতে জলবায়ু সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের সুরক্ষা, অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু তহবিলের ন্যায্য ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।
মো.মামুনুর রেজা বলেন, ‘শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জলবায়ু সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। বরেন্দ্র অঞ্চলের মতো অতিঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের সুরক্ষা, অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জলবায়ু তহবিলের সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।’
আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘অনুদানের বড় একটি অংশই প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক কাজে খরচ হয়ে যায়। কিন্তু মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে তা যথাযথভাবে পৌঁছায় না। বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে, তা মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য ও পর্যাপ্ত অর্থায়ন আদায়ে জোরালো দাবি তোলা প্রয়োজন।’
সম্মেলনে অংশগ্রহণের পাশাপাশি বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠপর্যায়ের তথ্য-উপাত্ত ও বাস্তব চিত্র সংকলন করে বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধি দলের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আলোচনার টেবিলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সমস্যা, প্রয়োজন ও প্রত্যাশাগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরতে চান তিনি।
সম্মেলন শেষে দেশে ফিরে অর্জিত অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের দিকনির্দেশনা নওগাঁসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের তরুণদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা করছেন মামুনুর। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে তরুণদের সম্পৃক্ত করে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তাঁর আন্তর্জাতিক জলবায়ু সম্মেলনে গমন যেন সুখকর হয়– এই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।
Leave a Reply