
………………. যাদব চন্দ্র রায়…… ভূমিকা: বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর চিরন্তন অসাম্প্রদায়িক চেতনা। আবহমান কাল ধরে এই ভূখণ্ডে ধর্ম যার যার হলেও, উৎসব ও আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার ঐতিহ্য সবার। এরই ধারাবাহিকতায় বছর ঘুরে আবার চলে এলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই উৎসব কেবল একটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি হয়ে উঠেছে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের মিলনমেলা। উৎসবের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও ঐক্য: দুর্গাপূজার মূল সুরই হলো শক্তির আরাধনা, অসুরের বিনাশ এবং কল্যাণের প্রতিষ্ঠা। সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্য দূর করে শান্তি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করাই এই উৎসবের আধ্যাত্মিক শিক্ষা। উৎসবের এই আনন্দক্ষণে আমাদের সকলের জীবনের পরম চাওয়া—পরস্পরের প্রতি ভালোবাসার বন্ধন যেন থাকে অটুট। সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, মৈত্রী ও সহমর্মিতা জাগ্রত করাই এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য। সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ: ঐতিহ্য ও বাস্তবতা: বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই সম্প্রীতির দেশ। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ এখানে যুগ যুগ ধরে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বসবাস করে আসছে। দুর্গাপূজা এলে মণ্ডপে মণ্ডপে সব ধর্মের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে, আমাদের সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন কতখানি সুদৃঢ়। বিশেষ করে দিনাজপুরের মতো ঐতিহ্যবাহী জেলাগুলোতে এই সম্প্রীতির চিত্র অত্যন্ত স্পষ্ট ও উজ্জ্বল। পাড়ায় পাড়ায় উৎসবের যে আমেজ তৈরি হয়, তা সকল প্রকার ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলে। উপসংহার ও প্রত্যয়: ধর্মীয় ও সামাজিক এই মেলবন্ধন আমাদের জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি। কোনো অপশক্তি বা সংকীর্ণতা যেন আমাদের এই বহু বছরের সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতিকে বিনষ্ট করতে না পারে, শারদীয় দুর্গোৎসবে এটাই হোক আমাদের প্রধান অঙ্গীকার। আসুন, আনন্দের এই মহালগ্নে আমরা সবাই একতাবদ্ধ হয়ে একটি অহিংস, সুন্দর ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলি। সকলের জীবন ভরে উঠুক শান্তিতে, এবং আমাদের সম্প্রীতির বন্ধন হোক চিরকাল অটুট। প্রবন্ধক: যাদব চন্দ্র রায় নির্বাহী পরিচালক, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (CDC), দিনাজপুর ও সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা ট্রাস্ট (BJSST), দিনাজপুর জেলা শাখা মোবাইল: ০১৭১৬৮৭৮৮৪৪, ই-মেইল: cdcdinajpur@yahoo.com
Leave a Reply