
নিজস্ব প্রতিবেদক.বাবলু মিয়া:
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার গুড়পাড়া গ্রামের এক সহজ-সরল আলমসাধু চালকের সঙ্গে জমি বিক্রির নামে প্রতারণা, টাকা আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে মিথ্যা মামলায় কারাবাস করানোর এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে এসেছে। প্রতারক মো. মতিয়ার রহমান বিশ্বাস ও তার মাস্টারমাইন্ড বড় ছেলে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. মাহবুব রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ভুক্তভোগীর অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে গুড়পাড়া বাজারে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে কোটচাঁদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ৪৩৫ নং দলিল মূলে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যে ৭৫ নং গুড়পাড়া মৌজার ৩৫৪৪ নং দাগের ৪ শতক জমি মো. আব্দুল জব্বারের নিকট বিক্রয় করেন মোতিয়ার রহমান। আলমসাধু চালিয়ে কষ্টার্জিত তিল তিল করে জমানো অর্থে কেনা ওই ৪ শতক জমিতে ঘর তুলে বসবাস শুরু করেন জব্বার।
পরবর্তীতে জমির নামপত্তন (মিউটেশন) করতে গেলে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসে। জানা যায়, উক্ত জমি আব্দুল জব্বারের নিকট বিক্রি করার বহু পূর্বে—অর্থাৎ গত ০৬/০৯/২০১৭ তারিখে ২৪০৪ নং দলিলে—মতিয়ার রহমান তার দুই স্ত্রী মোছা. পরিছন নেছা ও মোছা. পিনজিরার নামে হেবা ঘোষণা দলিল রেজিস্ট্রি করে দিয়েছিলেন। জমিটি স্ত্রীর নামে থাকা সত্ত্বেও তা গোপন রেখে জেনেশুনে প্রতারণার উদ্দেশ্যে তা জব্বারের কাছে বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করেন মতিয়ার রহমান।
প্রতারণার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার সালিশ-দরবার অনুষ্ঠিত হয়। মতিয়ার রহমান বিশ্বাস তার ৪ ছেলে, দুই ভাইপো (মোহাইমেন ও মাহফুজ), ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক দুই মেম্বার ইমদাদুল ও বজলু, গ্রামের মান্যবর ব্যক্তিবর্গ এবং মসজিদের দুই ইমাম (সাইদুর রহমান ও আলি আযম মোফাজ্জেল)-এর উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে আলমসাধু চালক জব্বারকে ৪ শতক জমি বুঝিয়ে দেন।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী জব্বার প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে কোটচাঁদপুর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা (নং ৪০৬/৪২০/৫০৬(২)) এবং ১৪৪ ধারার মামলা দায়ের করলে বিষয়টি গড়ায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে (মেডিয়েশন নং ৮৪২/২৬)। সেখানে চীফ লিগ্যাল এইড অফিসারের উপস্থিতিতে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং পরবর্তীতে ২০/১০/২০২৬ তারিখে সুস্থ শরীরে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে মতিয়ার রহমান লিখিত অঙ্গীকারনামা দেন যে, তিনি ও তার স্ত্রী মামলা তুলে নেবেন এবং জব্বারকে পাওনা জমি বুঝিয়ে দেবেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নিজের দেওয়া কোনো অঙ্গীকার না মেনে উল্টো প্রতারণাকে ধামাচাপা দিতে আইনি ফাঁদ তৈরি করেন মতিয়ার রহমান বিশ্বাস ও তার বড় ছেলে পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মো. মাহবুব রহমান। ডিজিএম মাহবুব রহমানের ইন্ধন ও মাষ্টারমাইন্ডিংয়ে মতিয়ার রহমানের স্ত্রীকে দিয়ে আদালতে মিথ্যা দেওয়ানী মামলা দায়ের করা হয়।
উক্ত মিথ্যা ও বানোয়াট দেওয়ানী মামলায় গত ১৫ অক্টোবর মহামান্য আদালত নিরীহ আলমসাধু চালক জব্বারকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। বর্তমানে ৩ টি সন্তান নিয়ে অসহায় জব্বারের পরিবার যখন চরম অনিশ্চয়তায়, তখন মাঠের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে কারারুদ্ধ দিন কাটাচ্ছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধনে উপস্থিত এলাকাবাসী চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ৩ টি সন্তান নিয়ে মাঠে ১ শতক জমি না থাকা এক গরিব মানুষ মেহনত করে জমি কিনে আজ জেলখানায়। অন্যদিকে মূল প্রতারক মতিয়ার রহমান বিশ্বাস এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারী তার ছেলে ডিজিএম মাহবুব রহমান বাইরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এলাকাবাসী প্রশাসনের আকুল দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে নিরীহ জব্বারের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, তার অবিলম্বে মুক্তি, পাওনা জমি বুঝিয়ে দেওয়া এবং প্রতারক চক্রের মূল হোতা মতিয়ার রহমান ও পল্লী বিদ্যুতের ডিজিএম মাহবুব রহমানের দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তির জোর দাবি জানান।
Leave a Reply