
সোহেল চৌধুরী,স্টাফ রিপোর্টারঃ গণমাধ্যম কর্মীদের ফোন কল রিসিভ করবেন না বা ফোনে কথা বলে কোনো তথ্য দিবেনা তথ্য নিতে হলে থানাতে এসে নিতে হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো,মেহেদী হাসান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টার সময় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় কথা বলার সময় এই ঘোষণা দেন তিনি। সম্প্রতি এক গণমাধ্যম কর্মীর সাথে ওসির কল রেকর্ড ফাঁসের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তথ্য নিয়ে জানা যায়,সম্প্রতি কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো,মেহেদী হাসানের কথপোকথনের একটি অডিও ক্লীপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ফাঁস করেন গণমাধ্যম কর্মী বাবলু মিয়া। এতে ক্ষোভে কোটচাঁদপুরের গণমাধ্যম কর্মীদের মোবাইলের ফোন কল রিসিভ করবেনা বা ফোনকলে কথা বলে কোনো তথ্য দিবেনা না বলে আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায় এ কথা বলেন তিনি । সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝিনাইদহ-৩ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো,মতিয়ার রহমান। সভাপতিত্ব করছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো, শামীম হোসাইন। সে সময় ওখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) সোহেল রানা,সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সদস্য একরামুল হক, উপজেলা জামায়াত ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির আজিজুর রহমান, কোটচাঁদপুর দাখিল মাদ্রাসার অধ্যাক্ষ বাহারুল ইসলাম, বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইসাহাক আলী, বীর মুক্তি যোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল মান্নান,বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ও বিএনপি নেতা মোমিন মনোয়ার, কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল্লাহ বাশার, পাঁচ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা গণ। গণমাধ্যম কর্মীদের ফোন কলে ওসি সাহেব কথা বলবেন না বিষয় প্রেস ক্লাব কোটচাঁদপুরের সভাপতি কাজী মদুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,তিনি যে ঘোষণা দিয়েছেন, এটা খুব খারাপ কথা। কারন আমরা যারা সাংবাদিকতা করি। প্রায় সময় ওনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন হয়। আর ওমনি যদি আমাদের সাথে কথা বলবেন না বলে এমন কথা বলেন তাহলে বিষয়টি অনেকটা জাতিকে অন্ধকারে রাখার সামিল। এটা কোনো যুক্তি সংগত না উদ্বেগ জনক কথা। তিনার যদি কারো উপর ক্ষোভ থাকে সেটা আমাদের কে জানাক আমি চাইবো তিনি ওই বক্তব্য প্রত্যহার করে আমাদেরকে সহযোগিতা করবেন। এ ব্যাপারে কোটচাঁদপুর উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল্লাহ বাশার বলেন, উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হিসেবে সভায় উপস্থিত ছিলাম। সভায় মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো, মেহেদী হাসান বক্তব্য দেওয়ার সময় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের ফোন কল রিসিভ করবেন না ফোনে কথা বলে কোনো তথ্য দিবেনা বলে ঘোষণা দেন। এ কথা শোনার সাথে সাথে আমি জানতে চাই কথা বলবেনা বা ফোন কলে তথ্য না দেওয়ার কারণ কি। সে সময় তিনি বলেন কারো সাথে কারো হওয়া কথোপকথন সে যে কথাই হোক তার অনুমতি ব্যথিত অন্য কোন জায়গায় দেওয়া বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা এটা আইনে অপরাধ যেটা একজন সাংবাদিকের সাথে হাওয়া আমার কথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রচার করেছে এই কারণে। তখন বলি একজনের করা অপরাধের দায় উপজেলার সকল গণমাধ্যম কর্মী নিতে পারেনা বা নিবেওনা। আমাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় যার কারণে সব সময় থানাতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব না। ফোন কলে তথ্য দিতে হবে। অন্যথায় আপনার বক্তব্য বাদে সংবাদ প্রকাশ করা লাগবে সে সময় যেন আবার বলবেন না আমার বক্তব্য দিলেন না কেন। এতে করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো,মেহেদী হাসান বলেন,কথা আপনাদের সঙ্গে কিভাবে বলবো বলেন। আপনারা আমার অনুমতি ছাড়া মোবাইল কল রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দিবেন। এটা তো ঠিক না। সেটা করেছেন। এ কারনে আমি এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে ওই ঘটনায় আপনারা তাঁর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি তো আমার মত করে ব্যবস্থা নিবো। কিন্তু আমার দাবী আপনারা তাঁর বিরুদ্ধে সম্মিলিত ভাবে ব্যবস্থা নেন।
Leave a Reply