
মোকছেদুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার হেলেঞ্চাডাঙ্গী গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবু সাঈদের (৩৫) মরদেহ দেশে পৌঁছেছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে তাঁর মরদেহ নিজ গ্রামে পৌঁছালে স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। নিহত আবু সাঈদ উপজেলার হেলেঞ্চাডাঙ্গী গ্রামের মোঃ আবু তালেবের ছেলে। পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধির আশায় জীবিকার তাগিদে তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন। সেখানে প্রবাসজীবনে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ স্ট্রোক করে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও ১১ বছরের এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন। পরে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে শনিবার তাঁর মরদেহ দেশে আনা হয়। মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর পর স্বজনদের আহাজারিতে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বাবার মরদেহ দেখে ১১ বছরের কন্যাসহ স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীসহ শত শত মানুষ। এ ঘটনায় পুরো হেলেঞ্চাডাঙ্গী গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে। শনিবার এশার নামাজের পর হেলেঞ্চাডাঙ্গী গ্রামে আবু সাঈদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে শত শত মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হয়। ভিডিও কলে পরিবারের পাশে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক এদিকে সৌদি প্রবাসী আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা জানাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হক, এমপি ভিডিও কলে আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা দেন। একই সঙ্গে জানাজায় উপস্থিত স্বজন ও মুসল্লিদের সঙ্গেও ভিডিও কলে কথা বলেন তিনি। প্রবাসে কর্মরত একজন বাংলাদেশির মৃত্যুতে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি খোঁজখবর নেওয়া ও সহমর্মিতা প্রকাশের বিষয়টি উপস্থিত স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গুরুত্ব পায়। আবু সাঈদের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে। ১১ বছরের কন্যাসন্তানকে রেখে তাঁর এভাবে চলে যাওয়া পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে আরও শোকের আবহ তৈরি করেছে।
Leave a Reply