
রিজওয়ান, নওগাঁ। নওগাঁ জেলার পত্নীতলার সর্ব উত্তরের জনবহুল জনপদ যা পাঁচমাথা মোড় নামেও পরিচিত হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত বাজার চকনিরখীন বা ঠুকনিপাড়ায় প্রতি বছরের ন্যায় এবারে ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোপূজাে ব্যাপক আনন্দঘণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে। পুজো মণ্ডপগুলোতে এখন ধূপের সুবাস, ঢাক ও শাঁখের ধ্বনী এবং ভক্তদের প্রাণবন্ত উপস্থিতিতে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে,যা গত বছরের তূলনায় বহগুনে গুণান্বিত বলে প্রতিয়মান হচ্ছে। এ বছর এই বাজার দুর্গো মন্দিরে মোট ৬ দিনব্যাপী পূজা উদযাপিত হচ্ছে, যেখানে অন্যান্য বছর এটি সাধারণত ৫ দিনে সমাপ্তি হয়ে থাকে। পঞ্জিকা মতে, তিথির পার্থক্যের কারণে এবার আশ্চর্যজনক ভাবে মহা সপ্তমী দুই দিন ব্যাপী পালিত হচ্ছে, যা পুজোর আনন্দ ও স্থায়ীত্বকে আরও বাড়িয়ে দূর্গোপূজো কে মহিমাম্বিত করে তুলেছে। পূজাে উদযাপন কমিটি সূত্র মতে প্রকাশ, মণ্ডপের কার্যক্রমে সার্বিক নেতৃত্বের দায়িত্বে রয়েছেন সভাপতি সঞ্জিত সাহা এবং পৌরহিত্য ও ধর্মীয় আচার-আচরণ, এবং রীতি-নীতি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, ঠাকুর সুদেব চক্রবর্তী। মণ্ডপের যাবতীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার লক্ষে সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ৬০০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। বাকি খরচ স্থানীয় চকনিরখীন বাজারের ব্যবসায়ীদের আন্তরিক চাঁদা ও আর্থিক সহযোগিতায় পরিচালিত ও নির্বাহীত হচ্ছে। মণ্ডপের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ কনস্টেবল সায়ারের নেতৃত্বে শিফটিং সিস্টেমে ৮ জন আনসার সদস্য নিবিড় ও কঠোরতম নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এই টিমে রয়েছেন- আনসার পিসি মোঃ আঃ রশিদ, তিতুমীর, মোস্তাকীন, আনসার এপিসি আলমগীর, শামীম, সাদ্দাম এবং দুই জন নারী আনসার সদস্য ফরিদা ও জুলেখা। ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে স্থানীয় ভক্ত ও দর্শনার্থীরা কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়াই এই মন্ডপে প্রতিমা দর্শনের জন্য আসাযাওয়া করছেন। একে তো জনবহুল স্থানে ও রাস্তা সংলগ্ন হওয়ায় এই প্যান্ডলের সৌন্দর্য আকর্ষণীয় ভাবে দর্শকের চিত্ত হরন করে চলেছে। দূরের পথচারীরা বিশেষ করে হিন্দু শূন্য অঞ্চলের বাস যাত্রীরা চলাচলের সময় অল্প সময়ের জন্য হলেও এখানে যাত্রা বিরতি করে পূজো প্যান্ডেল দর্শন করে পরম তৃপ্তি অনুভব করেছেন।সনাতনী দের পাশাপাশি অনেক মুসলিম সম্প্রদায়ের যুবক – যুবতীদের ও অংশগ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে। এটিই আমাদের সুজলা- সুফলা,শষ্য- শ্যামলা হিন্দু- মুসলিমের সম্মিলিত বাংলা।
Leave a Reply