
প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে টেলিমেডিসিনভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে উপশম প্লাস। উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় সম্প্রতি একটি প্রান্তিক খাসিয়া জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এ কার্যক্রমে চিকিৎসাসেবা দেন ডা. আরশি ও শুভজিৎ। উপশম প্লাসের টেলিমেডিসিন কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হচ্ছে ফেম আইটি নেটওয়ার্কস-এর তৈরি আধুনিক ও গতিশীল সফটওয়্যার। পাশাপাশি স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক প্রত্যন্ত এলাকায় দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ নিশ্চিত করছে। এর ফলে দূরবর্তী এলাকার রোগীদের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সরাসরি সংযোগ স্থাপন সম্ভব হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য হলো, ভৌগোলিক দূরত্ব ও চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা দূর করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নতমানের ক্লিনিক্যাল স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। উপশম প্লাসের প্রতিষ্ঠাতা ডা. মারুফ হোসাইন একজন সিনিয়র বিজ্ঞানী। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি অর্জন করেছেন। টেলিমেডিসিন বিষয়ে রয়েছে তাঁর ১৫ বছরের গবেষণাভিত্তিক অভিজ্ঞতা। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছেন তিনি। ডা. মারুফ হোসাইন বলেন, “গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার চিত্র পরিবর্তনের জন্য নির্ভরযোগ্য ও প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেই উপশম প্লাস চালু করা হয়েছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।” মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে স্থানীয় ফার্মেসি ও উপজেলা পর্যায়ের কমিউনিটি হেলথ সেন্টারগুলোতে উপশম প্লাসের সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। উপশম প্লাসের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, রোগীর বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সংগ্রহ করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে পাঠানোর সুবিধা। এর মাধ্যমে ডিজিটাল স্টেথোস্কোপ ব্যবহার করে হৃদপিণ্ড ও ফুসফুসের শব্দ পরীক্ষা, অটোস্কোপের মাধ্যমে কানের পরীক্ষা এবং ডার্মাটোস্কোপের মাধ্যমে ত্বকের ছবি সংগ্রহ করা যায়। এ ছাড়া সংগৃহীত তথ্য ও পরীক্ষার ফলাফল তাৎক্ষণিকভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছে পাঠানোর সুযোগ থাকায় প্রত্যন্ত অঞ্চলে থেকেও রোগীরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। উপশম প্লাসের প্রধান কর্মসূচি কর্মকর্তা এস.এম. ফাহিম ফারহাত বলেন, “ফেম আইটি নেটওয়ার্কসের তৈরি শক্তিশালী সফটওয়্যার, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং স্টারলিংকের স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার সমন্বয়ে আমরা গ্রামীণ জনগোষ্ঠী ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করছি।” প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি অংশীদার ও নিবন্ধিত চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যক্রম পরিচালনা করছে উপশম প্লাস। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক তথ্যের আলোকে মানুষের জন্য কার্যকর ও সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম লক্ষ্য। উপশম প্লাসের মূল দর্শন—রোগী ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার মধ্যে দূরত্ব যেন কোনো বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে দেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
Leave a Reply