
শান্তি বনাম অশান্তি প্রবন্ধক: যাদব চন্দ্র রায় নির্বাহী পরিচালক, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিডিসি), দিনাজপুর এবং সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা (বিজেএসএস), দিনাজপুর জেলা শাখা মানব সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকেই দুটি বিপরীতমুখী স্রোত পাশাপাশি প্রবাহিত হয়ে আসছে—একটি শান্তি, অন্যটি অশান্তি। শান্তি হলো জীবনের স্বাভাবিক, সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক রূপ; অন্যদিকে অশান্তি হলো বিশৃঙ্খলা, সংঘাত ও ধ্বংসের প্রতীক। বিশ্বজুড়ে আজ যে অস্থিরতা ও হানাহানি বিরাজ করছে, তার ভিড়ে শান্তির অন্বেষণ মানুষের চিরন্তন আকুতি। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত শান্তির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। শান্তি কেবল যুদ্ধ বা সংঘাতের অনুপস্থিতি নয়, বরং এটি হলো এমন এক সামাজিক ও মানসিক অবস্থা যেখানে প্রতিটি মানুষ সমতা, ন্যায়বিচার এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার পায়। যখন সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর হয়, মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হয় এবং পরমতসহিষ্ণুতা বজায় থাকে, তখন সেখানে শান্তির বাতাবরণ তৈরি হয়। তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষা এবং তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই টেকনিক্যালি প্রকৃত শান্তির ভিত্তি রচিত হয়। একটি বৈষম্যহীন ও স্বনির্ভর সমাজ গঠনে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ভূমিকা তাই অনস্বীকার্য। এর বিপরীতে অশান্তি মানুষের সুকুমার বৃত্তিকে ধ্বংস করে দেয়। লোভ, হিংসা, অসহিষ্ণুতা এবং অন্যায্য ক্ষমতার লিপ্সা থেকে অশান্তির জন্ম হয়। বর্তমান বিশ্বে স্বার্থের সংঘাত এবং নৈতিকতার অবক্ষয় সমাজকে এক গভীর অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। সমাজে যখন ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ হয় এবং গুজবের ডালপালা ছড়ায়, তখন অশান্তি আরও প্রকট রূপ ধারণ করে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও সত্য প্রকাশ এখানে একটি বড় ঢাল হিসেবে কাজ করতে পারে। তথ্যের সঠিক ও দায়িত্বশীল উপস্থাপন সমাজ থেকে অন্ধবিশ্বাস এবং বিশৃঙ্খলা দূর করতে সাহায্য করে। প্রকৃতপক্ষে, শান্তি ও অশান্তির এই চিরন্তন দ্বন্দ্বে জয়ী হতে হলে আমাদের সামষ্টিক প্রচেষ্টার প্রয়োজন। শান্তি বজায় রাখার জন্য প্রয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, পরমতসহিষ্ণুতা এবং ন্যায়ের শাসন। সমাজসেবা, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা অশান্তির কালো মেঘ তাড়িয়ে সমাজে শান্তির আলো ছড়াতে পারে। আসুন, আমরা প্রত্যেকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অশান্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই এবং একটি শান্তিপূর্ণ, সুন্দর ও মানবিক পৃথিবী গড়ে তুলতে অবদান রাখি।
Leave a Reply