1. admin@agamirdorpon.com : admin :
  2. agamirdarpon@gmail.com : News admin :
  3. razzakmaheshpur@gmail.com : razzakmaheshpur :
বিশেষ নিবন্ধ শিশু অধিকার রক্ষায় ইএসজি (ESG) ও করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি
September 23, 2026, 12:19 am
Title :
সীতাকুন্ডে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল মনসুরের দাফন সম্পন্ন ​ বাংলাদেশে বিচার বিভাগের শুদ্ধাচার ও আস্থা বৃদ্ধি: একটি প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা বিশেষ নিবন্ধ শিশু অধিকার রক্ষায় ইএসজি (ESG) ও করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি দুর্যোগ মোকাবিলা, প্রস্তুতি ও টেকসই উন্নয়ন: নিরাপদ ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নওগাঁ ছেড়ে ‘তাল বেলাল’ এখন পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে ২ হাজার ২০০ তালবীজ ও ফুলের চারা উপহার পেল হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠন নেতৃত্বের নেপথ্যে শক্তির উৎস মান্দা ইউএনও’র সঙ্গে অসকস সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় মিরশ্বরাই এ বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার উপজেলা কমিটি গঠিত রানীনগর-আত্রাই-নাটোর আঞ্চলিক সড়কে ছিনতাই চক্রের দুই হোতা গ্রেপ্তার নওগাঁয় সদর উপজেলা পরিষদের এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন

বিশেষ নিবন্ধ শিশু অধিকার রক্ষায় ইএসজি (ESG) ও করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি

  • Update Time : মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬
  • 5 Time View

বিশেষ নিবন্ধ শিশু অধিকার রক্ষায় ইএসজি (ESG) ও করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি: একটি সময়োপযোগী পর্যালোচনা যাদব চন্দ্র রায় বর্তমান বিশ্বায়ন ও আধুনিকায়নের যুগে টেকসই উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়িক ও করপোরেট খাতে ইএসজি (Environmental, Social, and Governance – ESG) ফ্রেমওয়ার্ক এবং করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি (Corporate Sustainability) একটি অন্যতম প্রধান মানদণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। একটি টেকসই সমাজ গঠনে ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য শুধু মুনাফা অর্জন নয়, বরং পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করা। এই সামাজিক (Social) ও শাসনব্যবস্থা (Governance) স্তম্ভের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অথচ প্রায়শই উপেক্ষিত দিক হলো “শিশু অধিকার”। শিশুরা যেকোনো জাতির ভবিষ্যৎ। তাই করপোরেট খাতের প্রতিটি পদক্ষেপে শিশু অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন আর কেবল দাতব্য কাজ নয়, বরং একটি আইনি ও নৈতিক বাধ্যবাধকতা। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসন সংক্রান্ত নীতিমালার সাথে শিশু অধিকার ওতপ্রোতভাবে জড়িত। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের সবচেয়ে বড় শিকার হয় শিশুরা। কলকারখানার বর্জ্য, বায়ুদূষণ এবং অনিরাপদ পানি শিশুদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। ইএসজি-র পরিবেশগত টেকসই নীতি শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখে। একইভাবে, সামাজিক সূচকের মূল অংশজুড়ে রয়েছে মানবাধিকার। সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ شৃঙ্খলে শিশু শ্রম নির্মূল করা, কর্মীদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ তৈরি করা যাতে তারা তাদের সন্তানদের সঠিক যত্ন ও শিক্ষা দিতে পারেন এবং শিশুদের উপযোগী নিরাপদ পণ্য ও সেবা উৎপাদন করা এই সূচকের অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ সুশাসন (Governance) নিশ্চিত করে যে তারা শিশু অধিকার রক্ষায় কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্বজুড়ে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের (UNCRC) আলোকে তাদের সাসটেইনেবিলিটি প্রতিবেদন তৈরি করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ বাস্তবতায় প্রধান তিনটি উদীয়মান খাতে এটি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক: তৈরি পোশাক শিল্প (RMG Sector): আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কঠোর কমপ্লায়েন্সের কারণে এই খাতের আনুষ্ঠানিক কারখানাসমূহহে শিশু শ্রম প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। তবে মূল ধারার বাইরের ছোট বা অনানুষ্ঠানিক সাব-কন্ট্রাক্টিং কারখানায় অনেক সময় পরোক্ষভাবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কর্মসংস্থান হয়, যা কঠোর মনিটরিংয়ের আওতায় আনা জরুরি। পাশাপাশি পোশাক শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য মানসম্মত ডে-কেয়ার, পুষ্টিকর খাদ্য ও শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও এগিয়ে আসা উচিত। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ খাত: বাংলাদেশের অনানুষ্ঠানিক খাতের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে কৃষি। তৃণমূল পর্যায়ে, বিশেষ করে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোতে পারিবারিক দারিদ্র্যের কারণে ফসলের মৌসুমে বা চাতাল ও ধান ভাঙানো মিলে শিশুরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে বাধ্য হয়। এছাড়া কৃষিতে ব্যবহৃত কীটনাশক ও রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসা শিশুদের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। করপোরেট কৃষি সংস্থাগুলোর উচিত তাদের সাপ্লাই চেইনে ইএসজি নীতিমালা প্রয়োগ করে কোনো শিশুকে যেন ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার না করা হয় তা নিশ্চিত করা। তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল খাত: চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে তথ্যপ্রযুক্তি খাত দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এই খাতে সরাসরি শিশু শ্রম দেখা না গেলেও, ডিজিটাল মাধ্যমে শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। টেক ও টেলিকম কোম্পানিগুলোর তৈরি অ্যাপ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্যের (Data Privacy) সুরক্ষা নিশ্চিত করা ইএসজি-র সুশাসন অংশের একটি বড় দায়িত্ব। পাশাপাশি শিশুদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে এমন কন্টেন্ট ফিল্টারিং করা এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে শিশু-বান্ধব রাখা করপোরেট সাসটেইনেবিলিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বাংলাদেশ বর্তমানে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দ্রুত শিল্পায়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই বাস্তবতায়, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সাসটেইনেবিলিটি প্রতিবেদনে শিশু অধিকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। সরকারি নজরদারির পাশাপাশি করপোরেট খাতের স্বপ্রণোদিত অংশগ্রহণই পারে একটি শিশু-বান্ধব ব্যবসায়িক পরিবেশ তৈরি করতে। প্রতিটি মাঝারি ও বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক প্রতিবেদনে শিশু অধিকার সুরক্ষায় গৃহীত পদক্ষেপগুলো আলাদা অধ্যায় হিসেবে প্রকাশ করা উচিত। সরবরাহ শৃঙ্খলে কোনো শিশু অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কিনা তা যাচাই করতে স্বাধীন থার্ড-পার্টি অডিটের ব্যবস্থা করা এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা (NGO) ও নাগরিক সমাজের সাথে যুক্ত হয়ে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করা। শিশু অধিকার রক্ষা কেবল একটি আইনি দায়িত্ব নয়, এটি একটি টেকসই ও বৈষম্যহীন ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের মূল ভিত্তি। পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং সুশাসনের (ESG) মাধ্যমে আমরা যদি আমাদের শিশুদের একটি নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় শৈশব উপহার দিতে পারি, তবেই আমাদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই ও অর্থপূর্ণ হবে। লেখক পরিচিতি: যাদব চন্দ্র রায় নির্বাহী পরিচালক, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (সিডিসি), দিনাজপুর এবং সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা (বিজেএসএস), দিনাজপুর জেলা শাখা। মোবাইল: ০১৭১৬৮৭৮৮৪৪, ই-মেইল: cdcdinajpur@yahoo.com

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©2019agamirdarpon
Design & Developed By BD IT HOST