1. admin@agamirdorpon.com : admin :
  2. agamirdarpon@gmail.com : News admin :
  3. razzakmaheshpur@gmail.com : razzakmaheshpur :
সেন্ট্রাল এশিয়ায় ক্ষমতার খেলা: ভূ-রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় কব্জা এবং ব্যবসার নতুন সমীকরণ
September 22, 2026, 3:10 pm
Title :
নেতৃত্বের নেপথ্যে শক্তির উৎস মান্দা ইউএনও’র সঙ্গে অসকস সদস্যদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় মিরশ্বরাই এ বাংলাদেশ সাংবাদিক উন্নয়ন সংস্থার উপজেলা কমিটি গঠিত রানীনগর-আত্রাই-নাটোর আঞ্চলিক সড়কে ছিনতাই চক্রের দুই হোতা গ্রেপ্তার নওগাঁয় সদর উপজেলা পরিষদের এমপির পরিদর্শন কক্ষের উদ্বোধন পরিবেশ আইন সেন্ট্রাল এশিয়ায় ক্ষমতার খেলা: ভূ-রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় কব্জা এবং ব্যবসার নতুন সমীকরণ জলবায়ু পরিবর্তন, সুপেয় পানির সংকট এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি: বিপন্ন সামাজিক কাঠামো ও উত্তরণের পথ শিশু অধিকার রক্ষায় ইএসজি (ESG) ও করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি আগামী প্রজন্মের অধিকার ও টেকসই উন্নয়ন: সংকটে ও সম্ভাবনায় আমাদের শিশুরা

সেন্ট্রাল এশিয়ায় ক্ষমতার খেলা: ভূ-রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় কব্জা এবং ব্যবসার নতুন সমীকরণ

  • Update Time : সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬
  • 33 Time View

সেন্ট্রাল এশিয়ায় ক্ষমতার খেলা: ভূ-রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় কব্জা এবং ব্যবসার নতুন সমীকরণ প্রবন্ধক: যাদব চন্দ্র রায় নির্বাহী পরিচালক, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (CDC), দিনাজপুর এবং সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা (BJSS), দিনাজপুর জেলা শাখা। মোবাইল: ০১৭১৬-৮৭৮৮৪৪, ই-মেইল: cdcdinajpur@yahoo.com সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে যে কয়েকটি অঞ্চল কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক কারণে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে, তার মধ্যে সেন্ট্রাল এশিয়া বা মধ্য এশিয়া অন্যতম। খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস এবং ভূ-কৌশলগত অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলটি পরাশক্তিদের নজর কাড়লেও, অভ্যন্তরীণভাবে এখানকার শাসনব্যবস্থা ও অর্থনীতি এক জটিল আবর্তে বন্দি। বর্তমান সময়ে মধ্য এশিয়ার রাজনীতি এবং অর্থনীতিকে বুঝতে হলে তিনটি মূল স্তম্ভের দিকে নজর দিতে হবে: রাষ্ট্রীয় কব্জা (State Capture), দুর্নীতি দমনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার এবং এর ফলে তৈরি হওয়া ব্যবসা পরিচালনার সম্পূর্ণ নতুন ও অলিখিত নিয়মকানুন। ১. রাষ্ট্রীয় কব্জা (State Capture): ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ: সেন্ট্রাল এশিয়ার দেশগুলোর (যেমন কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান) সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ‘স্টেট ক্যাপচার’ বা রাষ্ট্রীয় কব্জা। এটি এমন এক পদ্ধতি যেখানে রাষ্ট্রের আইনি কাঠামো, বিচার বিভাগ, নীতি নির্ধারণী সংস্থা এবং অর্থনৈতিক খাতগুলো কোনো জনকল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে কাজ করে না। বরং এগুলো নিয়ন্ত্রিত হয় মুষ্টিমেয় কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার, অলিগার্ক (Oligarchs) বা বিশেষ গোষ্ঠীর ইশারায়। এখানে আইন তৈরি হয় বিশেষ কোনো ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য, আর বিচার বিভাগকে ব্যবহার করা হয় সেই সুবিধা অক্ষুণ্ণ রাখতে। সাধারণ অর্থে যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকদের সুরক্ষা দেয়, সেখানে এই অঞ্চলে রাষ্ট্র নিজেই একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষার ঢাল হিসেবে কাজ করছে। ২. ওয়েপোনাইজড অ্যান্টি-করাপশন: দুর্নীতি দমন যখন রাজনৈতিক হাতিয়ার: দুর্নীতি দমন যেকোনো গণতান্ত্রিক ও সুস্থ শাসনব্যবস্থার মূল ভিত্তি। কিন্তু মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে একে দেখা হয় সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে। এখানকার শাসকগোষ্ঠী দুর্নীতি দূর করার জন্য আইন প্রয়োগ করে না, বরং এই আইনকে ‘ওয়েপোনাইজ’ বা রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। যখনই কোনো ব্যবসায়ী সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে চায়, কিংবা কোনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বর্তমান সরকারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তখনই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি বা অর্থপাচারের মামলা দেওয়া হয়। ক্ষমতার ভেতরের কোন্দল মেটাতে বা প্রতিদ্বন্দ্বীকে ব্যবসায়িক দৃশ্যপট থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার জন্য এই ‘দুর্নীতি বিরোধী অভিযান’ এক মোক্ষম অস্ত্র। ফলে, সাধারণ মানুষের চোখে যা দুর্নীতি দমন, পর্দার আড়ালে তা আসলে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার এক নিষ্ঠুর খেলা। ৩. ব্যবসা পরিচালনার নতুন অলিখিত নিয়ম (The New Rules of Doing Business): এই অস্থিতিশীল এবং নিয়ন্ত্রিত রাজনৈতিক পরিবেশের কারণে সেন্ট্রাল এশিয়ায় ব্যবসা করার প্রচলিত বৈশ্বিক নিয়মগুলো খাটছে না। সেখানে কোনো বহুজাতিক কোম্পানি বা স্বাধীন উদ্যোক্তা যদি ব্যবসা করতে চায়, তবে তাকে কিছু বিশেষ এবং অলিখিত নিয়ম মেনে চলতে হচ্ছে: রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা (Political Patronage): মেধা বা মূলধনের চেয়ে এখানে ব্যবসার বড় পুঁজি হলো রাজনৈতিক সংযোগ। ক্ষমতার শীর্ষ মহলের আশীর্বাদ বা অংশীদারিত্ব ছাড়া বড় কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। অনিশ্চয়তা ও উচ্চ ঝুঁকি: যেকোনো মুহূর্তে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হতে পারে। আর ক্ষমতার বদল মানেই আগের সরকারের আমলে নেওয়া সব ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও চুক্তি বাতিল হওয়া বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত হওয়া। স্থানীয় সমীকরণ ও সমঝোতা: আন্তর্জাতিক আইন বা চুক্তির চেয়ে স্থানীয় ক্ষমতাশালীদের সাথে সুসম্পর্ক এবং তাদের স্বার্থ রক্ষা করাটাই এখানে ব্যবসার মূল শর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপসংহার: সেন্ট্রাল এশিয়া বা মধ্য এশিয়ার এই ক্ষমতার খেলা ও ব্যবসায়িক পরিবেশ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেখানে অর্থনীতি সম্পূর্ণভাবে রাজনীতির অধীনস্থ। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত এবং দুর্নীতি দমন সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না করা পর্যন্ত এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক বিকাশ টেকসই রূপ পাবে না। মুক্তবাজার অর্থনীতির কথা বলা হলেও, পর্দার আড়ালের অলিখিত নিয়মগুলোই এখন মধ্য এশিয়ায় টিকে থাকার এবং ব্যবসা করার মূল চালিকাশক্তি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved ©2019agamirdarpon
Design & Developed By BD IT HOST