
বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬: অস্তিত্বের সংকটে নদী, দিনাজপুরসহ দেশজুড়ে নদী সুরক্ষায় জরুরি পদক্ষেপের দাবি………………………………………………………………………. যাদব চন্দ্র রায় দিনাজপুর, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬: “বন নেই, নদী নেই, পানি নেই, জীবন নেই”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। এই উপলক্ষে এক বিবৃতিতে কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (CDC) এর নির্বাহী পরিচালক, বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন দিনাজপুর জেলা কমিটি এবং বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা (BJSS) দিনাজপুর জেলা কমিটির সভাপতি যাদব চন্দ্র রায় (Jadab Chandra Roy) নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোর সংকটাপন্ন অবস্থা দূর করা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবৃতিতে পরিবেশবিদ ও সাংবাদিক নেতা যাদব চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হলেও আধুনিক শিল্পায়ন, জনসংখ্যার চাপ এবং পরিবেশের প্রতি চরম উদাসীনতার কারণে আজ আমাদের নদীগুলো অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। ২০২৬ সালের বিশ্ব নদী দিবসের প্রতিপাদ্য আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে বনাঞ্চল এবং নদী ব্যবস্থা একে অপরের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। বন উজাড়ের কারণে যেভাবে ভূগর্ভস্থ এবং ভূপৃষ্ঠের পানির উৎস শুকিয়ে যাচ্ছে, তেমনি নদীগুলোর স্বাভাবিক প্রবাহও ব্যাহত হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বুক চিরে বয়ে যাওয়া শত শত নদী আজ দখলদার আর দূষণকারীদের কবলে পড়ে মৃতপ্রায়। প্লাস্টিক বর্জ্য, ক্ষতিকর রাসায়নিক, অপরিশোধিত শিল্পবর্জ্য এবং শহরের পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলার কারণে পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দিনাজপুরের পুনর্ভবা, আত্রাই ও ইছামতিসহ দেশের বহু নদীর নাব্যতা হ্রাস পেয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে নদীগুলো মরুভূমিতে পরিণত হয়, আর বর্ষায় দুকূল ছাপিয়ে বন্যা সৃষ্টি করে। উচ্চ আদালতের ঐতিহাসিক রায়ে নদীকে ‘জীবন্ত সত্তা’ ঘোষণা করা হলেও মাঠপর্যায়ে এর যথাযথ বাস্তবায়ন এখনও পুরোপুরি দৃশ্যমান নয়। নদী রক্ষা ও পুনরুজ্জীবনে তিনি ৫টি সুনির্দিষ্ট দাবি ও করণীয় তুলে ধরেন: আইনের কঠোর প্রয়োগ: নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদীর সীমানা সঠিকভাবে নির্ধারণ করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ: কলকারখানা ও পৌরসভার বর্জ্য নদীতে ফেলার সংস্কৃতি বন্ধ করে ইটিপি (ETP) ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে। পুনঃখনন ও নাব্যতা বৃদ্ধি: শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত নদী খনন (Dredging) করতে হবে। বনায়ন বৃদ্ধি: নদী তীরবর্তী অঞ্চলে এবং অববাহিকায় ব্যাপকভাবে গাছ লাগাতে হবে, যা নদীর পার ভাঙন রোধ করবে। গণসচেতনতা: তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে নদী সুরক্ষার গুরুত্ব ছড়িয়ে দিতে হবে। বিবৃতির শেষে যাদব চন্দ্র রায় বলেন, “নদী বাঁচলে পানি বাঁচবে, আর পানি বাঁচলে সুরক্ষিত থাকবে আমাদের জীবন ও প্রকৃতি। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ বাসযোগ্য পৃথিবী রেখে যেতে হলে নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার কোনো বিকল্প নেই।” তিনি সংবাদ মাধ্যমের কর্মীসহ সকলকে নদী রক্ষার এই সামাজিক আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান। — সমাপ্ত — গণমাধ্যম যোগাযোগের জন্য: প্রবন্ধক/বিবৃতিদাতা: যাদব চন্দ্র রায় (Jadab Chandra Roy) পদবি: নির্বাহী পরিচালক, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (CDC), দিনাজপুর | সভাপতি, বাংলাদেশ নদী বাঁচাও আন্দোলন ও বাংলাদেশ জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা (BJSS), দিনাজপুর জেলা কমিটি। মোবাইল: ০১৭১৬৮৭৮৮৪৪ ই-মেইল: cdcdinajpur@yahoo.com
Leave a Reply