
শান্তি আক্তার : নওগাঁ প্রতিনিধি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে বজ্রপাত মোকাবিলায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে দুই হাজার তালবীজ রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। ‘সবুজের পথে নতুন অঙ্গীকার’ স্লোগানকে সামনে রেখে দেবীগঞ্জ উপজেলার পামুলী ইউনিয়নের গাববাড়ী এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠন’ এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। পরিবেশবান্ধব এ উদ্যোগে সার্বিক সহযোগিতা করেছেন দেশের অন্যতম বৃক্ষপ্রেমী ও নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহমুদুন নবী বেলাল, যিনি ‘তাল বেলাল’ নামে পরিচিত। মাহমুদুন নবী বেলাল ইতিপূর্বে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে তালগাছসহ বিভিন্ন ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করে দেশজুড়ে প্রশংসিত হয়েছেন। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চেরি ফুলের চারাসহ বিভিন্ন গাছ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রেখে আসছেন। এবার তাঁর সহযোগিতায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জেও শুরু হলো সবুজায়নের এ উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ। বক্তব্যে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সবুজ পৃথিবী গড়তে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে বজ্রপাত মোকাবিলায় তালগাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তরুণদের পরিবেশ রক্ষায় এগিয়ে আসা প্রশংসনীয়। কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা, দেবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুসা মিয়া এবং নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মাহমুদুন নবী বেলাল। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সহসভাপতি আসাদুজ্জামান খান চৌধুরী আপেল, অর্থ সম্পাদক তানিয়া ফেরদৌসী, সদস্য পারুল আক্তার, সবুজ হোসেন, আব্দুল হালিম, আন্তর আহম্মেদসহ সংগঠনের সদস্যরা। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিটি সফল করতে হিলফুল ফুজুল যুব সংগঠনের অন্যতম নেতা সাজ্জাদ হোসেন ও আসাদুজ্জামান নূর প্রথমসহ একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, মাটির ক্ষয়রোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেবীগঞ্জ উপজেলার অন্যান্য সড়ক ও খালি জায়গাতেও তালবীজ রোপণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
Leave a Reply