
— যাদব চন্দ্র রায় সাংবাদিক ও নির্বাহী পরিচালক, কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (CDC), দিনাজপুর ভূমিকা: একটি দেশের চালিকাশক্তি হলো তার তরুণ প্রজন্ম। বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন, মানবাধিকার রক্ষা এবং শান্তিময় সমাজ বিনির্মাণের সবচেয়ে বড় কারিগর তরুণরা। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ঐতিহাসিক ২২৫০ নম্বর প্রস্তাবের (Resolution 2250) মাধ্যমে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় তরুণদের অংশীদারিত্বকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তৃণমূল পর্যায় থেকে জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক স্তর—সবখানেই আজ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে: তরুণদের বাদ দিয়ে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। শান্তি ও নিরাপত্তায় তরুণের ভূমিকা: তরুণরা কেবল ভবিষ্যতের নেতা নয়, তারা বর্তমানেরই পরিবর্তনের চালিকাশক্তি (Change-makers)। আমাদের সমাজে শান্তি রক্ষা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং পরমতসহিষ্ণুতা বজায় রাখতে তরুণদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। যখন কোনো সমাজে অস্থিরতা বা উগ্রবাদ দানা বাঁধে, তখন তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও ইতিবাচক নেতৃত্বই পারে সমাজকে সঠিক পথে ফেরাতে। দিনাজপুরসহ সমগ্র বাংলাদেশে স্থানীয় পর্যায়ে তরুণরা বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী কাজ, রক্তদান, সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং বাল্যবিয়ে রোধের মতো সামাজিক ব্যাধির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা রাখছে। তৃণমূল উন্নয়ন ও যুব ক্ষমতায়ন: তৃণমূল পর্যায়ে মানবাধিকার রক্ষা, নারী ও শিশুদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং টেকসই সমাজ গঠনে যুব সমাজকে মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। তরুণদের যদি আইনি সচেতনতা, নেতৃত্ব এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার দীক্ষা দেওয়া যায়, তবে তারা সমাজে সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। বেকারত্ব বা সুযোগের অভাব তরুণদের বিপথগামী করতে পারে, তাই তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা এবং সমাজ গঠনমূলক কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। গণমাধ্যম ও যুব সমাজ: সাংবাদিকতার চোখ দিয়ে দেখলে স্পষ্ট বোঝা যায় যে, তরুণদের অফুরন্ত সম্ভাবনাকে গণমাধ্যমে ইতিবাচকভাবে ফুটিয়ে তোলা কতটা জরুরি। তরুণরা যখন শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়, তখন সমাজের নেতিবাচকতা দূর হতে বাধ্য। সাইবার নিরাপত্তা বজায় রাখা, গুজব প্রতিরোধ করা এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমেও তরুণরা আধুনিক যুগের ডিজিটাল শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। উপসংহার: তরুণদের হাত ধরেই একটি বৈষম্যহীন ও শান্তিময় সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। তাদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ ঘটিয়ে, সহিংসতার পথ থেকে দূরে রেখে দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তরুণদের শক্তি, মেধা এবং সাহসকে যখন শান্তি ও নিরাপত্তার স্বার্থে কাজে লাগানো হবে, তখনই আমরা একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধশালী ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ উপহার পাব।
Leave a Reply